| |

ক্রিস অ্যাডামস

৬ মে, ১৯৭০ তারিখে ডার্বিশায়ারের হুইটওয়েল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতে পারতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘গ্রিজলি’ কিংবা ‘গ্রিজোল্ড’ ডাকনামে পরিচিতি পান। ৬ ফুট উচ্চতার অধিকারী তিনি। চেস্টারফিল্ড বয়েজ গ্রামার স্কুল ও রেপ্টন স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৮৮ থেকে ২০০৮-০৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ার ও সাসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরির পক্ষে খেলেছেন।

নিজের সেরা দিনে ব্যাট হাতে বেশ খবরদারিত্ব করতেন। প্রচণ্ড শক্তি প্রয়োগ করে বলে আঘাত করতেন। বলকে শূন্যে ভাসাতেই অধিক ভালোবাসতেন। ডার্বিশায়ারে থাকাকালীন এ প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। দলটির পক্ষে ৮৩৯৬ রান তুলেন। এরপর, সাসেক্সে চলে যান। সেখানে আরও সফলতা পান। ২৭ শতক সহযোগে ৪১.৪২ গড়ে ১০৭২৮ রান তুলেন। এছাড়াও, সফলতার সাথে সাসেক্স দলের নেতৃত্বে থাকেন।

১৯৯৮ থেকে ২০০০ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্ট ও সমসংখ্যক ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে নাসের হুসাইনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৫ নভেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। মাইকেল ভন ও গেভিন হ্যামিল্টনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১৬ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। অ্যালান ডোনাল্ডের অপূর্ব বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২১ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১৪ জানুয়ারি, ২০০০ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত ও ছেড়ে দেয়া খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে ১ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ২ উইকেটে জয়লাভ করলেও সফরকারীরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

তাঁর আগ্রাসী দৃষ্টিভঙ্গী টেস্ট পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালালে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত সিরিজে ৮ ইনিংসের কোনটিতেই সুবিধে করতে পারেননি। তবে, ওডিআইয়ে সহজাত বিধ্বংসী ধরনের খেলা হয়তোবা সফলতা পেতে পারতো। তবে, ৫ খেলায় তাঁকে বেশ হিমশিম খেতে দেখা যায়। গড় ১৮-তে চলে আসে ও বিস্ময়করভাবে স্ট্রাইক রেট ৪৯.৩০-এ চলে আসে।

শুরুরদিনগুলোয় ক্রিকেট মাঠে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। একবার ওয়াসিম আকরামকে এক চোট নিয়ে নেন। তবে, পরবর্তী দিনগুলোয় পরিপক্ক নেতৃত্বের গুণাবলী নিয়ে অগ্রসর হন ও প্রায় একাকী সাসেক্সের ভাগ্য পরিবর্তনে এগিয়ে এসেছিলেন।

২০০৪ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত তিনি। জিএল অ্যাডামস নাম্নী এক কন্যা রয়েছে। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ২০১৩ সালে সারে দলের ক্রিকেট ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে, নেদারল্যান্ডস ক্রিকেট দলের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন। এরপর, ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে মনোনীত হন।

সম্পৃক্ত পোস্ট