৩ জুলাই, ১৯৮৫ তারিখে জ্যামাইকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করে থাকেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘রোপ’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছেন। জ্যামাইকাভিত্তিক মানরো কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে কম্বাইন্ড ক্যাম্পাসেস ও কলেজেসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স, গালে গ্ল্যাডিয়েটর্স, গায়ানা আমাজন, ইসলামাবাদ ইউনাইটেড, জ্যামাইকা তাল্লাজ, করাচী কিংস ও ভ্যাঙ্কুভার নাইটসের পক্ষে খেলেছেন। ১১ জানুয়ারি, ২০০৮ তারিখে কিংস্টনে জ্যামাইকা বনাম কম্বাইন্ড ক্যাম্পাসেস ও কলেজের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
২০০৮-০৯ মৌসুমে ৫৪৬ রান সংগ্রহসহ ৩৮ ডিসমিসাল ঘটিয়েছিলেন। ২০০৯ সালে বোর্ডের সাথে দলের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়ের আর্থিক মতবিরোধের জের ধরে ২০০৯ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ খেলার জন্যে তাঁকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট, নয়টিমাত্র ওডিআই ও ১৯টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। বোর্ডের সাথে শীর্ষ খেলোয়াড়দের মতবিরোধের জের ধরে টেস্ট দলে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। উভয় টেস্টই বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ২০০৯ সালে নিজ দেশে মাশরাফি মর্তুজা’র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ৯ জুলাই, ২০০৯ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ডেল রিচার্ডস, কেমার রোচ, নিকিতা মিলার, ওমর ফিলিপস, রায়ান অস্টিন ও ট্রাভিস ডাউলিনের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। সফরকারীদের বিপক্ষে অভিষেক ইনিংসে তিনটি ডিসমিসাল ঘটান। এছাড়াও, খেলায় তিনি ০ ও ১০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে মাহমুদুল্লাহ’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। তামিম ইকবালের অসাধারণ ব্যাটিং কৃতিত্বে স্বাগতিকরা ৯৫ রানে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, একই সফরের ১৭ জুলাই, ২০০৯ তারিখে সেন্ট জর্জেসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে সাতটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা সাকিব আল হাসানের অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
একই বছরে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলার জন্যে তাঁকে ওডিআই দলে যুক্ত করা হয়। অভিষেকে চারটি ডিসমিসাল ঘটিয়েছিলেন।
তবে, অভিষেকে দূর্দান্ত খেললেও ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর বেশ ছন্দপতন ঘটতে থাকে। ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০০৯ তারিখে জোহানেসবার্গে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দারুণ খেললেও উভয় ওডিআইয়ে শূন্য রানে বিদেয় নেন। এমনকি অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলোর চার ইনিংস থেকে মাত্র ১০ রান তুলতে সমর্থ হয়েছিলেন। বোর্ডের সাথে মতানৈক্য ঘটার প্রেক্ষিতে জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়দের প্রত্যাবর্তনে তাঁকে দলের বাইরে চলে যেতে হয়।
ক্রিস গেইলের আঘাতের কারণে সৃষ্ট শূন্যতা পূরণে ২০১৩-১৪ মৌসুমে নিউজিল্যান্ড সফরে যাবার জন্যে তাঁকে পুণরায় দলে ফেরার সুযোগ দেয়া হয়। তেমন ভূমিকা রাখতে না পারলেও ঐ সফরে টি২০আইয়ে প্রথমবারের মতো খেলার সুযোগ পান। ১১ জানুয়ারি, ২০১৪ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি২০আইয়ে তাঁর অভিষেক ঘটে। খেলায় তিনি ৯ রান তুলেন। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত টি২০ কাপে উপেক্ষিত হন।
৩০ জুলাই, ২০১৮ তারিখে বাংলাদেশের বিপক্ষে টি২০আই সিরিজ খেলতে বিশ্রামে থাকা ক্রিস গেইলের পরিবর্তে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন। ৫ আগস্ট, ২০১৮ তারিখে লডারহিলে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বশেষ টি২০আইয়ে অংশ নেন।
