|

চার্লি বার্নেট

৩ জুলাই, ১৯১০ তারিখে গ্লুচেস্টারশায়ারের ফেয়ারভিউ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

সর্বসমক্ষে ‘চার্লি’ কিংবা ‘গাভনর’ নামে সম্বোধিত হলেও তিনি সর্বদাই নিজেকে ‘চার্লস’ নামে পরিচিতি ঘটাতে সচেষ্ট থাকতেন। ১৯৩০-এর দশকে সেরা ব্যাটসম্যানদের যুগে সেরাদের কাতারে অবস্থান করেন। চেল্টেনহাম ক্রিকেট মাঠের পার্শ্ববর্তী এলাকায় তাঁর জন্ম। ১৯২৭ থেকে ১৯৪৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বোলারদের ত্রাসে পরিণত হয়েছিলেন। গ্লুচেস্টারশায়ারের পক্ষে নিয়মিতভাবে ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। তন্মধ্যে, শেষ মৌসুমে দুই সহস্রাধিক রানের সন্ধান পেয়েছিলেন। ১৯৩৪ সালে সমারসেটের বিপক্ষে ১১ ছক্কার মারে ১৯৪ রান তুলেছিলেন।

শুধুমাত্র বলে আঘাত করেই বিরত থাকতেন না। ড্রাইভ ও কাটের পাশাপাশি রক্ষণাত্মক ব্যাটিং কৌশল গ্রহণেও দক্ষতার পরিচয় দিতেন। এরফলে, দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন ও তাঁকে ইংল্যান্ড দলে যুক্ত করা হয়।

১৯৩৩ থেকে ১৯৪৮ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ২০ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৩৩ সালে নিজ দেশে জ্যাকি গ্র্যান্টের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১২ আগস্ট, ১৯৩৩ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। চার্লস ম্যারিয়টের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দলের একমাত্র ইনিংসে আট নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন। অতঃপর ৫২ রানে থাকা অবস্থায় রান-আউটে তাঁকে বিদেয় নিতে হয়। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ১৭ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৩৩-৩৪ মৌসুমে ডগলাস জার্ডিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। তবে, তেমন রানের সন্ধান পাননি। ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৪ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৪ ও ২৬ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ২০২ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৩৬ সালে নিজ দেশে বিজিয়ানাগ্রামের মহারাজের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৫ আগস্ট, ১৯৩৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৪৩ ও ৩২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৯ উইকেটে পরাভূত হলে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৩৬-৩৭ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরে অনুষ্ঠিত অ্যাশেজ সিরিজে ডন ব্র্যাডম্যানের নেতৃত্বাধীন ডাউন আন্ডারের বিপক্ষে ক্রমাগত সফলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। সিরিজে সমতা থাকা অবস্থায় অ্যাডিলেড টেস্টে ১২৯ রানের মনোরম শতক হাঁকিয়ে ইংল্যান্ড দলকে এগিয়ে রাখলেও ডন ব্র্যাডম্যানের ২১২ রানে কল্যাণে দল খেলায় পিছিয়ে পড়ে।

ঐ মৌসুমে গাবি অ্যালেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৬ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬৯ ও ২৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। ঐ টেস্টে সফরকারীরা ৩২২ রানের ব্যবধানে বিশাল জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১ জানুয়ারি, ১৯৩৭ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১১ ও ২৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ঐ খেলায় তাঁর দল ৩৬৫ রানে পরাজয়বরণ করলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।

এরপর, ২৯ জানুয়ারি, ১৯৩৭ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে তিনি ১২৯ ও ২১ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে চাক ফ্লিটউড-স্মিথের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলায় অস্ট্রেলিয়া দল ১৪৮ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-২ ব্যবধানে সমতা আনতে সমর্থ হয়।

একই সফরের ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৭ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১৮ ও ৪১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ২০০ রানে পরাজয়বরণ করলে সফরকারীরা ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৩৮ সালে ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া দল ইংল্যান্ডে খেলতে আসলে আবারও নিজেকে মেলে ধরতে তৎপর হন। ১০ জুন, ১৯৩৮ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ১২৬ রানের মনোরম ইনিংস খেলেন। তন্মধ্যে, প্রথম দিনে মধ্যাহ্নভোজনের পূর্বে ৯৮ রান তুলেছিলেন। সংখ্যার দিক দিয়ে এটি টেস্টের প্রথম অধিবেশনে যে-কোন ইংরেজের মধ্যে সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে অনেকের ন্যায় তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনও বাঁধাগ্রস্ত হয়। ১৯৪৫ সালের পর আর মাত্র চার টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৪৮ সালে নিজ দেশে ডন ব্র্যাডম্যানের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১০ জুন, ১৯৪৮ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৮ ও ৬ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে বিল জনস্টনের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এ পর্যায়ে তিনি তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের সেরা দিনগুলো ফেলে এসেছিলেন।

সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলো থেকে ৪৮ শতক সহযোগে ৩২.৭১ গড়ে পঁচিশ হাজারের অধিক রান সংগ্রহ করেছিলেন।

২৮ মে, ১৯৯৩ তারিখে গ্লুচেস্টারশায়ারের স্ট্রাউড এলাকার নার্সিং হোমে ৮২ বছর ৩২৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট