১৭ নভেম্বর, ১৯৮৮ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

শ্রীলঙ্কার ঘরোয়া ক্রিকেটে অন্যতম ধারাবাহিক ব্যাটসম্যান। কলম্বোভিত্তিক সেন্ট যোসেফস কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ছিলেন। ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ২০০৬-০৭ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে বাসনাহিরা নর্থ, কোল্টস ক্রিকেট ক্লাব, রাগামা ক্রিকেট ক্লাব ও সিংহ স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, প্রাইম দলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন। পাশাপাশি, শ্রীলঙ্কার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্যরূপে খেলেন। ১৭ নভেম্বর, ২০০৬ তারিখে কুরুনেগালায় অনুষ্ঠিত কুরুনেগালা ইয়ুথ ক্রিকেট ক্লাব বনাম সিংহ স্পোর্টস ক্লাবের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

খুব কম সময়ই প্রিমিয়ার লীগ টুর্নামেন্টে তিনি ৫০-এর কাছাকাছি গড়ে রান তুলেননি। এ পর্যায়ে তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর যে-কোন মৌসুমেই অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানরূপে পরিগণিত হলেও খুব কম সময়ই সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীর মর্যাদা পেয়েছেন কিংবা ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে সহজাত প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। তাসত্ত্বেও, এক পর্যায়ে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁর প্রতি সদয় হয়।

২০১৬ সালে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। পূর্ববর্তী বছরের অক্টোবর মাসে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে বিশাল সফল হন। ২০১৬ সালের প্রিমিয়ার লীগ টুর্নামেন্টে ৫৫-এর অধিক গড়ে ৬৭৮ রান পান। এরপর, ইংল্যান্ডে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের সদস্যরূপে ৬২.৮০ গড়ে ৩১৪ রান তুলেন। ফলশ্রুতিতে, টেস্ট দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন।

২০১৭ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বমোট ১২ টেস্টে অংশ নিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দলের ৩-০ ব্যবধানে ধবলধোলাইয়ের কারণে দলের ব্যাটিং অবস্থানে কোন পরিবর্তন না করায় তাঁর খেলার সুযোগ হয়নি। ২০১৭ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলার জন্যে পুণরায় তাঁকে দলে ফিরিয়ে আনা হয়।

২০১৭-১৮ মৌসুমে দিনেশ চণ্ডীমলের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে ভারত গমন করেন। ২ ডিসেম্বর, ২০১৭ তারিখে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ০ ও ৭৪* রান সংগ্রহ করেন। তবে, প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি’র অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্য স্বত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

একই মৌসুমে দিনেশ চণ্ডীমলের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে বাংলাদেশ গমন করেন। পুরো সিরিজে অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে অগ্রসর হন। ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৫৬ ও ৭০* রান সংগ্রহ করেন। তাঁর অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ২১৫ রানে জয় পেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও, এ সিরিজে ২৩৫ রান সংগ্রহ করে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পান।

২০১৮ সালে দিনেশ চণ্ডীমলের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমন করেন। ২৩ জুন, ২০১৮ ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও দিবা-রাত্রীর চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১১ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক জেসন হোল্ডারের প্রাণান্তঃকর অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও সফরকারীরা ৪ উইকেটে জয় পেলে সিরিজ ড্র করতে সমর্থ হয়।

২০১৮-১৯ মৌসুমে দিনেশ চণ্ডীমলের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৪ জানুয়ারি, ২০১৯ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ৯ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, প্যাট কামিন্সের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে সফরকারীরা ইনিংস ও ৪০ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

সম্পৃক্ত পোস্ট