|

টমি অ্যান্ড্রুজ

২৬ আগস্ট, ১৮৯০ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের নিউটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে লেগ-ব্রেক বোলিং করতে পারতেন। পাশাপাশি, কাছাকাছি এলাকায় দূর্দান্ত ফিল্ডিং করতেন। ১৯২০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯০৯ সালে পিটারশাম ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ১৯৩৬ সালে অবসর গ্রহণ করেন। তবে, ক্লাব কর্তৃপক্ষের অনুরোধক্রমে ১৯৪১ সালে দলে ফিরে আসেন। ১৯১২-১৩ মৌসুম থেকে ১৯২৮-২৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এ সময়ে বল ছোঁড়ার অভিযোগের কারণে বোলিং করার উপর নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন। ৭ নভেম্বর, ১৯১৪ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলস বনাম কুইন্সল্যান্ডের মধ্যকার খেলায় বলকে ঢিল আকারে ছুড়েছিলেন। ১৯১৯-২০ মৌসুমে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৪৭ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। শিরোপা লাভের জন্যে ঐ খেলায় তাঁর দলকে অবশ্যই জয়লাভ করতে হতো। প্রায় ৪০ গড়ে আট সহস্রাধিক রানের সন্ধান পেয়েছিলেন।

১৯২১ থেকে ১৯২৬ সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ১৬ টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ ঘটে। ১৯২১ সালে অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৮ মে, ১৯২১ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। স্টর্ক হেন্ড্রি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১০ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১৩ আগস্ট, ১৯২১ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৯৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯২১-২২ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে নিয়মিত অধিনায়ক ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের অসুস্থতার কারণে হার্বি কলিন্সের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ৫ নভেম্বর, ১৯২১ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩ ও ৩৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা যান। ১৯২৬ সালে ওয়ারেন বার্ডসলি’র নেতৃত্বে আবারও ইংল্যান্ড গমন করেছিলেন। ১২ জুন, ১৯২৬ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত ঐ টেস্টে দলের সকলের ন্যায় তিনিও ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ২৪ জুলাই, ১৯২৬ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

এরপর, ১৪ আগস্ট, ১৯২৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৩ ও ১৫ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে হ্যারল্ড লারউডের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ২৮৯ রানে পরাজিত হলে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টগুলো থেকে ২৬.৯০ গড়ে ৫৯২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৯৪ রান তুলেছিলেন। তেমন সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। কেবলমাত্র চারটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন।

বেশ দক্ষতা সহকারে ও নির্ভরযোগ্যতার সাথে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯২০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে কয়েকবার গুগলি বোলিং করেছেন। জনতার সাথে একত্রে বসতেন ও সকলের কথা মনোযোগের সাথে শুনতেন। একবার বলেছিলেন যে, ‘যদি কর্তৃপক্ষ বল ছোঁড়া বন্ধ করে তাহলে অস্ট্রেলিয়ায় ক্রিকেটের মৃত্যুঘণ্টা বাজবে।’

ক্রিকেটের বাইরে বেসবল খেলায় দক্ষ ছিলেন। নিউ সাউথ ওয়েলসের পক্ষে বেসবল খেলতেন। এরফলে নিজেকে তাঁর সময়কালের অন্যতম সেরা ফিল্ডারের ভূমিকায় উপস্থাপন করেছিলেন। ৫৪ বছর বয়সে এসেও পিটারশাম ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে ক্লাব ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। পিটারশাম পার্কে তাঁর নামানুসরণে টি. জে. ই অ্যান্ডুজ মেমোরিয়াল স্কোরবোর্ড রাখা হয়।

২৮ জানুয়ারি, ১৯৭০ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ক্রয়ডন এলাকায় ৭৯ বছর ১৫৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট