২৭ জুন, ১৮৮৬ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ওয়েস্ট মেইটল্যান্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
যোসেফ বেল্টন ম্যাকার্টনি ও মেরি অ্যান দম্পতির সন্তান ছিলেন। মাতামহ জর্জ ১৮৭০-এর দশকে আন্তঃঔপনিবেশিক ক্রিকেটার ছিলেন ও তাঁকে শৈশবে বোলিং করতেন। ১৮৯৮ সালে তাঁর পরিবার সিডনিতে চলে আসে। ওলারা সুপারিয়র ও চ্যাটসউড পাবলিক স্কুলে অধ্যয়ন করেন। এরপর, ফোর্ট স্ট্রিট মডেল স্কুলে পড়াশুনো করেছেন। ১৯০২ সালে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। ঐ বছর নর্থ সিডনি ক্রিকেট ক্লাবে যোগ দেন। ১৯০৫ সালে গর্ডনের প্রতিষ্ঠানকালীন সময়ে চলে যান। ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত ক্লাবটিতে ছিলেন। এ পর্যায়ে ৭৬৪৮ রান ও ৫৪৭ উইকেট দখল করেছিলেন।
‘দ্য গভর্নর-জেনারেল’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ১৯০৫-০৬ মৌসুম থেকে ১৯২৬-২৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস ও নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওতাগো দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০৫-০৬ মৌসুমে নিউ সাউথ ওয়েলসের সদস্যরূপে শেফিল্ড শীল্ডে প্রথমবারের মতো খেলেন। সিডনি প্রথম স্তরের ক্রিকেটে ব্যাটিং ও বোলিং উভয় বিভাগেই গড়ের দিক দিয়ে শীর্ষে ছিলেন।
১৯০৭ থেকে ১৯২৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ৩৫ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯০৭-০৮ মৌসুমে নিজ দেশে ফ্রেডরিক ফেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৩ ডিসেম্বর, ১৯০৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জেরি হ্যাজলিট, স্যামি কার্টার ও ভার্নন র্যান্সফোর্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৩৫ ও ৮ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে আর্থার ফিল্ডারের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৫ ও ১/৩৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ২ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ১৯০৭-০৮ মৌসুমে নিজ দেশে এ. ও. জোন্সের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৮ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১২ ও ২৯ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৮ ও ১/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৩০৮ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এরপর, ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৮ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১ ও ১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৪৪ ও ২/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৪৯ রানে জয়লাভ করে স্বাগতিকরা ৪-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
প্রতিপক্ষীয় জনৈক খেলোয়াড় উইকেটে তাঁর মাঝে আত্মবিশ্বাসের বিষয়টি লক্ষ্য করেন ও তাঁকে ‘দ্য গভর্নর-জেনারেল’ ডাকনামে ভূষিত করেন।
১৯০৯ সালে মন্টি নোবেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১ জুলাই, ১৯০৯ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৭/৫৮ ও ৪/২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৪ ও ১৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১২৬ রানে জয়লাভ করলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এরপর, ২৬ জুলাই, ১৯০৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ ও ৫১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩১ ও ০/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
১৯১০-১১ মৌসুমে নিজ দেশে পার্সি শারওয়েলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৭ জানুয়ারি, ১৯১১ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৫১ ও ১/২৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৩৮ রানে জয় পেলেও সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ৩ মার্চ, ১৯১১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বেশ কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এ পর্যায়ে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৭৫ রান অতিক্রম করেন। পাশাপাশি, টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতরানের ইনিংস খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১৩৭ ও ৫৬ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে রেজি সোয়ার্জের বলে বিদেয় নেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। বল হাতে নিয়ে ০/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয়লাভ করলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
১৯১১-১২ মৌসুমে নিজ দেশে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯১২ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২৬ ও ২৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২৬ ও ০/২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৭০ রানে পরাজয়বরণ করলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯১২ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতায় সিড গ্রিগরি’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৯ জুলাই, ১৯১২ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট খেলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলায় তিনি ব্যাট কিংবা বল হাতে কোন ভূমিকা রাখতে পারেননি। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।
এরপর, ১৯ আগস্ট, ১৯১২ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪ ও ৩০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/২২ ও ০/৪৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ২৪৪ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে।
১৯২১ সালে ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের নেতৃত্বে অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৩ আগস্ট, ১৯২১ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৬১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯২১-২২ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে নিয়মিত অধিনায়ক ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের অসুস্থতার কারণে হার্বি কলিন্সের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ৫ নভেম্বর, ১৯২১ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ২ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৫৯ ও ১১৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ১/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
মধ্যাহ্নভোজনের পূর্বেই শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেছেন। ১৯২৬ সালে হেডিংলি টেস্টে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৭২ মিনিটে ১৫১ রান তুলে দলের বিপর্যয় রোধে এগিয়ে আসেন। শুরুতেই দুই রানে থাকাকালীন মরিস টেটের পঞ্চম বলে স্লিপ অঞ্চলে ক্যাচ ফস্কে গেলে রক্ষা পান। এ পর্যায়ে মধ্যাহ্নভোজনের পূর্বেই ১১৬ মিনিটে ১১২ রান তুলেন। পেলহাম ওয়ার্নার এ ইনিংসটিকে তাঁর দেখা সেরা ইনিংস হিসেবে চিত্রিত করেন। অস্ট্রেলিয়া দল ৪৯৪ রান তুলে ও ইংল্যান্ড দল ফলো-অনের কবলে পড়ে।
১৯২৬ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে ওয়ারেন বার্ডসলি’র নেতৃত্বধীন অজি দলের সদস্যরূপে তাঁকে যুক্ত করা হয়। ১২ জুন, ১৯২৬ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত ঐ টেস্টে ০/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করালেও দলের সকলের ন্যায় তিনিও ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ১৪ আগস্ট, ১৯২৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২৫ ও ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৬ ও ০/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ২৮৯ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৮ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের লিটল বে এলাকায় ৭২ বছর ৭৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
