৯ অক্টোবর, ১৯৫১ তারিখে ইয়র্কশায়ারের মিডলসবোরা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
৬ ফুট উচ্চতার অধিকারী জিওফ কুক মিডলসবোরা হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৭১ থেকে ১৯৯০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহাম ও নর্দাম্পটনশায়ার এবং দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৮১ থেকে ১৯৮৩ সময়কালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে সাতটিমাত্র টেস্ট ও ছয়টিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। টেস্টগুলোর ১৩ ইনিংস থেকে ১৫.৬১ গড়ে রান পেয়েছেন। তন্মধ্যে, শ্রীলঙ্কার ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টও এর অন্তর্ভূক্ত ছিল। ১৯৮২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদ্রোহী দলের সফরে ইংল্যান্ডের বেশ কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটার যুক্ত হলে তাঁকে টেস্ট দলে ঠাঁই দেয়া হয়। ১৯৮১-৮২ মৌসুমে দলের সাথে ভারত গমন করেন। ২৫ নভেম্বর, ১৯৮১ তারিখে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। তবে, ভারতের সাধারণমানের বোলিং আক্রমণের বিপরীতে দুইটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস বাদে তেমন কিছু করতে পারেননি।
একই মৌসুমে কিথ ফ্লেচারের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮২ তারিখে কলম্বোর পিএসএসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। স্মর্তব্য যে, শ্রীলঙ্কার টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্ট ছিল। খেলায় তিনি ১১ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, জন অ্যাম্বুরি’র অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ৭ উইকেটে জয় তুলে নেয়।
১৯৮২-৮৩ মৌসুমে বব উইলিসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২ জানুয়ারি, ১৯৮৩ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৮ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, কিম হিউজের অসাধারণ শতক সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্ট ক্রিকেটে তেমন ভূমিকা রাখতে না পারলেও প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দূর্দান্ত ভূমিকার স্বাক্ষর রাখেন। ২০ মৌসুম খেলে ৩৭ শতক সহযোগে ২৩৩৭৭ রান পেয়েছেন। তন্মধ্যে, আট মৌসুম দলের অধিনায়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। এছাড়াও, ১২ মৌসুমে এগারোটিতে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। কেবলমাত্র একবার ৯৬৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন।
১৯৭০-এর দশকের শেষদিকে কয়েক মৌসুম কারি কাপে ইস্টার্ন প্রভিন্সের পক্ষে খেলেছেন। এরপর, ডারহামে চলে যান। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের মর্যাদা লাভকালে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে দলের প্রথম অধিনায়কের মর্যাদা পান।
খেলোয়াড়ী জীবন শেষে প্রশাসনের দিকে ধাবিত হন। দীর্ঘ ২৭ বছর ডারহামের ক্রিকেটে কিংবদন্তীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডারহাম কাউন্টি দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে ডারহাম দল ২০০৮, ২০০৯ ও ২০১৩ সালে তিনবার চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা লাভ করেন। এ অর্জনগুলো বেশ কয়েকটি পুরনো কাউন্টিগুলোর চেয়েও এগিয়ে রয়েছে। এছাড়াও, ২০০৭ সালে দলটি ফ্রেন্ডস প্রভিডেন্ট ট্রফির শিরোপা জয় করে। ২০১৩ সালে হৃদযন্ত্রের ক্রীয়ায় আক্রান্ত হন। এরফলে, ডারহামের পূর্ণাঙ্গ কোচের দায়িত্ব থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন। অতঃপর ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ তারিখে কর্মকর্তা পুণর্গঠনের অংশ হিসেবে ক্রিকেট পরিচালক পদ থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। পাশাপাশি, প্রফেশনাল ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ও সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
