১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
লাহোরে জন্মগ্রহণকারী জাফর গহর নগরীর উত্তর অঞ্চলের ক্লাব ক্রিকেটে অংশ নিতেন। এরপর, শাফকাত রানা ক্রিকেট একাডেমিতে যুক্ত হন। এরফলে, অনূর্ধ্ব-১৫ দলের সদস্য হিসেবে তাঁকে মনোনীত করা হয়। ২০০৮ সালে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্ব প্রতিযোগিতায় খেলার জন্যে নির্বাচিত হন। ঐ প্রতিযোগিতায় ১৭.১০ গড়ে ১০ উইকেট লাভ করেন তিনি।
এরপর, ২০১২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের পর ২০১৩ সালে ইংল্যান্ডে যুব দলের সফরে নিজেকে সকলের কাছে পরিচিত করে তুলেন। সেখানে বাংলাদেশসহ ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতায় সফলতম বোলারে পরিণত হন। ১১.৪৪ গড়ে ১৮ উইকেট লাভ করেন। পাশাপাশি, নিজ দেশে ফিরেও বেশ ভালোমানের খেলা উপহার দেন। অবশেষে অন্যতম বৃহৎ বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত দল জারাই তারাকিয়াতি ব্যাংক লিমিটেডের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। ঐ ক্লাবের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে বড়দের দলের খেলার সুযোগ পান। সাঈদ আজমল, আব্দুল রাজ্জাক, ইয়াসির হামিদের ন্যায় তারকা খেলোয়াড়দের ছত্রচ্ছায়ায় নিজেকে শাণিত করেন।
২০১৩ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে জারাই তারাকিয়াতি ব্যাংক লিমিটেডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ইসলামাবাদ ইউনাইটেড ও লাহোর কালান্দার্সের পক্ষে খেলেছেন। ২৩ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ওয়াটার ও পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট অথরিটি বনাম জারাই তারাকিয়াতি ব্যাংক লিমিটেডের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। পাকিস্তান স্টেট ব্যাংকের পক্ষে খেলার পর ২০১৫ সালে সুই সাউদার্ন গ্যাস কর্পোরেশনে খেলেন।
২০১৫ সাল থেকে পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন। বোলিংকালে ক্রিজে তাঁর পা এগিয়ে ফেলার প্রবণতা রয়েছে। অক্টোবর, ২০১৫ সালে বামহাতি স্পিনার জাফর গহরকে আঘাতগ্রস্ত ইয়াসির শাহের পরিবর্তে খেলানো হয়। তবে, তিনি সঠিক সময়ে বিমানে আরোহণ করতে পারেননি। অবশ্য একমাস পর তাঁর ওডিআই অভিষেক হয়। ১৭ নভেম্বর, ২০১৫ তারিখে শারজায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রবেশ করেন।
২০২০-২১ মৌসুমে মোহাম্মদ রিজওয়ানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৩ জানুয়ারি, ২০২১ তারিখে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে বিভিষীকাময় বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। ১৫৯ রান খরচ করেও কোন উইকেট লাভে ব্যর্থ হন। এছাড়াও, ৩৪ ও ৩৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, কাইল জেমিসনের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৭৬ রানে জয় পেয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
