২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩১ তারিখে ইয়র্কশায়ারের রডন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। এছাড়াও, ফরোয়ার্ড শর্ট লেগ অঞ্চলে ফিল্ডিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৪৯ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সমারসেট ও ইয়র্কশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৪৯ সালে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ১০০০ রান ও ১০০ উইকেট দখলের ন্যায় ‘ডাবল’ লাভের অধিকারী হন। ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি পূর্ণোদ্যমে রক্ষণাত্মক ভঙ্গীমায় অগ্রসর হতেন। তবে, রোমাঞ্চকর আক্রমণে খেলার চেষ্টা করলেও তা অনেকাংশে সঠিক বলে প্রতীয়মান হতো না। মিডিয়াম-পেস ও অফ-স্পিন বোলিং করতেন। ব্যাটিংয়ের চেয়ে বোলিংয়েই অধিকতর ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছিলেন।

১৯৪৯ থেকে ১৯৭৬ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ২২ টেস্ট ও একটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। অল-রাউন্ডার হিসেবে ইয়র্কশায়ারের পক্ষে এক মৌসুম দূর্দান্ত খেলার পর ইংল্যান্ড দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণবার্তা লাভ করেন। ১৯৪৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার জন্যে দলের সদস্য হন। ঐ বছর নিজ দেশে ওয়াল্টার হ্যাডলি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৩ জুলাই, ১৯৪৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। লেস জ্যাকসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১৮ বছর বয়সে খেলার সুবাদে ইংল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়েন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে টম বার্টের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩৯ ও ০/৪৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। তবে, প্রথম মৌসুমের প্রতিশ্রুতিশীলতা আর কখনো বাস্তবায়ন করতে পারেননি। পরবর্তী ২৭ বছর ইংল্যান্ড দলে আসা-যাবার পালায় ছিলেন।

১৯৬১ সালে নিজ দেশে রিচি বেনো’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৭ জুলাই, ১৯৬১ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩৩ ও ৮ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঐ খেলায় স্বাগতিকরা ৫৪ রানে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে সমতায় চলে আসে।

ঐ টেস্ট শেষে রিচি বেনো’র দলকে মোকাবেলায় ব্যর্থ হবার পর ইংল্যান্ড দল নির্বাচকমণ্ডলীর নজরের বাইরে চলে যান। তবে, ১৯৬৩ সালে সদর্পে ফিরে আসেন। লর্ডস টেস্টে সফররত ক্যারিবীয় দলের বিপক্ষে স্বাগতিকদের বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। ঐ ইনিংসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান তুলেন। অপ্রচলিত কৌশল অবলম্বনে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান পেসারদের বল মোকাবেলা করে সফলতা পান।

১৯৬৭ সালে নিজ দেশে মনসুর আলী খান পতৌদি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৮ জুন, ১৯৬৭ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২২* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/০ ও ২/৪৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৬ উইকেটে জয়লাভ করলে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই বছর নিজ দেশে হানিফ মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২৭ জুলাই, ১৯৬৭ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৪ ও ৩৬ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১০ ও ০/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

ইয়র্কশায়ার ও ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করে সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। তবে, কাউন্টি খেলায় বিলম্বিত পন্থা অবলম্বনের কারণে ইংল্যান্ডের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি পান। পরবর্তীতে, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তাঁকে সমারসেটে চলে যেতে হয়। সেখানে খেলোয়াড়ী জীবনের শেষ দিনগুলো অতিবাহিত করেন। ১৯৭৬ সালে নিজ দেশে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৮ জুলাই, ১৯৭৬ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২ ও ২০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলায় সফরকারীরা ৪২৫ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

শর্ট লেগ অঞ্চলে ভীতিহীন চিত্তে ফিল্ডিংয়ের কারণে সবিশেষ পরিচিতি পান। খুব কম সময়ই জোরে পেটানো বলগুলো তাঁর পাশ দিয়ে চলে যেতো। এছাড়াও, ১৯৭৬ সালে ৪৫ বছর বয়সে এসে মাইকেল হোল্ডিং, অ্যান্ডি রবার্টস ও ড্যানিয়েলের বল মোকাবেলায় সাহসী ভূমিকা রাখেন। পরবর্তী বছরগুলোয় ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে খেলেন। এরপর, ইয়র্কশায়ারে ফিরে আসেন। ক্রিকেট কমিটিতে প্রধানের দায়িত্বে থেকে আরও বিতর্কিত হন। ১৯৭০-এর দশকের শেষদিকে ইংল্যান্ড দল নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ তারিখে ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারের ব্রাডফোর্ড এলাকার কাছাকাছি বেইলডনে ৮৪ বছর ২০২ দিন বয়সে স্বল্পকালীন রোগে ভোগে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট