২৫ অক্টোবর, ১৯৮০ তারিখে আম্বালানতোতায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ক্ষীপ্রগতিসম্পন্ন বোলার ছিলেন। অনুশীলনকালে অধিনায়ক সনথ জয়সুরিয়া’র হেলমেটে বল লাগিয়ে বিমোহিত করেন। প্রকৃত গতি নিয়ে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। তবে, সহজাত ভঙ্গীমায় বলকে সর্বত্র ফেলতেন। সেন্ট টমাস মাতারা’র পক্ষে এক বছর খেলেন। এমআরএফ পেস ফাউন্ডেশনের সদস্য ছিলেন। ১৪০ কিলোমিটার গতিবেগে বোলিং করতে পারতেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে ব্লুমফিল্ড ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে মাতারা স্পোর্টস ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন।
২০০১ থেকে ২০০৩ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট ও ২৩টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২৭ অক্টোবর, ২০০১ তারিখে শারজায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন। আট ওভারে একটি মেইডেনসহ ২৪ রান খরচায় দুই উইকেট তুলে নিয়ে দলের সহজ জয়ে সবিশেষ ভূমিকা রাখেন। তবে, পরবর্তী সাক্ষাতে নাভেদ লতিফ ও ইনজামাম-উল-হকের বিপক্ষে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। হাঁটুর আঘাতে খেলায় বিরূপ প্রভাব ফেলে। অস্ট্রেলিয়ায় ভিবি সিরিজে সাধারণমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় শ্রীলঙ্কা দলের পক্ষে খেলার সুযোগ পান।
২০০৩ সালে নিজ দেশে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৫ এপ্রিল, ২০০৩ তারিখে কলম্বোর পিএসএসে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কৌশল লুকুয়ারোচ্চি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ০/৮৩ ও ২/৪৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ২৮* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই বছর হাসান তিলকরত্নে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৮ জুন, ২০০৩ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ ওডিআইয়ে অংশ নেন। একই সফরের ২৭ জুন, ২০০৩ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বল হাতে নিয়ে ৫/৬৪ ও ০/৬৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, কোরে কোলিমোরের বিধ্বংসী বোলিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয় পেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। ক্রমাগত আঘাতের কারণে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের অকাল সমাপ্তি ঘটে।
ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। অস্ট্রেলিয়া থেকে তৃতীয় স্তরের কোচিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। এরপর এসএলসিতে সহকারী ফাস্ট বোলিং কোচ হিসেবে কর্মরত।
