১ মার্চ, ১৯৮১ তারিখে বালাপিতিয়ার উপকূলীয় শহরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
অন্যতম সম্ভাবনাময় ও উদীয়মান ফাস্ট বোলার হিসেবে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত হন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ২০১৯-২০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে কোল্টস ক্রিকেট ক্লাব, কন্দুরাতা, নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাব, সিংহ স্পোর্টস ক্লাব ও সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চেন্নাই সুপার কিংস ও ক্রিকেট কোচিং স্কুলের পক্ষে খেলেছেন।
১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। কয়েক বছর দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। তন্মধ্যে, বিসিসিএসএলের ফাস্ট বোলিং ইউনিটেও একাধারে বোলিং করে কৃতিত্বের পরিচয় দেন। ফলশ্রুতিতে, জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন।
২০০৩ থেকে ২০১০ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বমোট ১০ টেস্ট, ৩৮টি ওডিআই ও ছয়টিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা গমনার্থে শ্রীলঙ্কা দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০০৩ সালে হাসান তিলকরত্নে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৭ জুন, ২০০৩ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১১ ও ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩৬ ও ০/২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, কোরে কোলিমোরের বিধ্বংসী বোলিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয় পেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
তবে, ঐ বছরের শেষদিকে ইংল্যান্ড সফরে টেস্ট কিংবা ওডিআই দলে অবস্থান করে তেমন সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। ব্যাট হাতে তেমন সফলতা না পেলেও মারকুটে ব্যাটিংয়ের অধিকারী। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে নিজ নামের পার্শ্বে দুইটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস যোগ করেছেন। ২০০৮ সালের ইন্টার-প্রভিন্সিয়াল সীমিত-ওভারের প্রতিযোগিতায় যৌথ শিরোপা বিজয়ী কন্দুরাতা দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। ১১ উইকেট নিয়ে ঐ প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীতে পরিণত হন।
ফলশ্রুতিতে, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমনার্থে পুণরায় তাঁকে টেস্ট দলে খেলার জন্যে মনোনীত করা হয়। দুই টেস্ট থেকে আট উইকেট দখল করেন। এরপর, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিকে ঘিরে ৩০-সদস্যের প্রাথমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। শ্রীলঙ্কান পিচেই কেবলমাত্র তাঁর বোলিংয়ের কার্যকারীতা প্রকাশ পেয়েছে।
২০০৯ সালে নিজ দেশে ইউনুস খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২০ জুলাই, ২০০৯ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৫/৮৩ ও ১/১২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, কুমার সাঙ্গাকারা’র ব্যাটিং সাফল্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয় পায়।
১৭ নভেম্বর, ২০০৯ তারিখে ভারত গমন থেকে উপেক্ষিত হন। নুয়ান কুলাসেকারা’র সাথে সফলতম বোলিং জুটি গড়েছেন। ২০১০-১১ মৌসুমে নিজ দেশে ড্যারেন স্যামি’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৫ নভেম্বর, ২০১০ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ০/৭৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ক্রিস গেইলের অসাধারণ ত্রি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
