২৪ অক্টোবর, ১৯৩৪ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের বোম্বেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা মাধব আপ্তে’র বর্ণাঢ্যময় খেলোয়াড়ী জীবনের তুলনায় ম্লান হয়ে পড়েছিলেন। তাসত্ত্বেও স্ব-মহিমায় নিজের পরিচিতি ঘটান। শীর্ষসারিতে মারকুটে ব্যাটিংয়ের কারণে সুনাম পান। উইকেটের সর্বত্র স্ট্রোকের ফুলঝুড়ি ছুটিয়েছেন। অনেকাংশে ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতর সংস্করণের উপযোগী ছিলেন। নিজ সময়ের চেয়েও কয়েক দশক এগিয়ে রেখেছিলেন নিজেকে।
১৯৫৫-৫৬ মৌসুম থেকে ১৯৭০-৭১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়ার আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বোম্বে ও রাজস্থানের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ইন্ডিয়ান ইউনিভার্সিটিজের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী উপহার দেন। এ পর্যায়ে পঙ্কজ রায়ের পর ব্যাটিং গড়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করেছিলেন ও ৭০ গড়ে রান পেয়েছিলেন। ফলশ্রুতিতে, ইংল্যান্ড গমনার্থে তাঁকে ভারত দলের সদস্যরূপে ঠাঁই দেয়া হয়।
১৯৫৯ সালে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ঐ বছর দত্তা গায়কোয়াড়ের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমনের সুযোগ পান। সংরক্ষিত উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁকে রাখা হয়। সাধারণমানের সফলতা পেয়েছিলেন। ঐ সফরে তিনটি শতরানের ইনিংস খেললেও ৩০-এর নীচের গড়ে রান পেয়েছেন। ২৭.৫৩ গড়ে ৮৮১ রান তুলেন। তন্মধ্যে, ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ১৬৫ রানের ইনিংস খেলেন। নরি কন্ট্রাক্টরের আঘাতের কারণে ২ জুলাই, ১৯৫৯ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। উভয় ইনিংসে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমেছিলেন। ৮ ও ৭ রান তুলতে পেরেছিলেন। খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ১৭৩ রানে পরাজয়বরণ করে। পাশাপাশি, পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। উভয় ক্ষেত্রেই অ্যালান মসের শিকারে পরিণত হন। এরপর আর তাঁকে দলে খেলানো হয়নি। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
১৯৬০-এর দশকে বোম্বে দলে বেশ কয়েকজন তারকা খেলোয়াড়ের অন্তর্ভুক্তির ফলে তাঁর পক্ষে দলে টিকে থাকা বেশ অসম্ভব হয়ে পড়ে। এরফলে, রাজস্থান দলে চলে যান। ঐ দলের পক্ষে ১৯৭০-৭১ মৌসুমে সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে ৩৩.৫১ গড়ে ২৭৮২ রান তুলেছিলেন। তন্মধ্যে, ছয়টি শতরানের ইনিংস ছিল।
মোটর গাড়ী চালনা করতে অধিক পছন্দ করতেন। মুম্বইয়ে ১৯৪৯ সালের বেন্টলে এমকে সিক্সে অংশ নেন। ১৯৫৩ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত নিয়মিতভাবে লর্ডস টেস্টে উপস্থিত থাকতেন। ১৯৯৯ সালে নতুন গণমাধ্যম কেন্দ্র স্থাপনের পূর্বে নিজস্ব ফ্ল্যাট থেকে মাঠের খেলা দেখতে পারতেন।
১৯৭২ সালে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর পারিবারিক টেক্সটাইল ব্যবসায় মনোনিবেশ ঘটান। ৭৪ বছর ২৮৫ দিন বয়সে ৫ আগস্ট, ২০১৪ তারিখে মুত্রথলির ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে পুনেতে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
