৮ জুন, ১৮৬৬ তারিখে নর্দাম্বারল্যান্ডের টাইনমাউথ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণ কর্মে মনোনিবেশ ঘটিয়েছেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
এটন কলেজে অধ্যয়ন শেষে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেছেন। ১৮৮৩ সালে এটনের প্রথম একাদশের পক্ষে ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলার জন্যে মনোনীত হন। পরবর্তীতে, উইকেট-রক্ষক হিসেবে অংশ নিতে থাকেন। তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নকালে উইনচেস্টারের বিপক্ষে ১৪১ এবং হ্যারোর বিপক্ষে ৫৩ ও ২৭ রান তুলেছিলেন। তবে, ১৮৮৬ সালে অসুস্থতার কারণে ক্রিকেট খেলা থেকে নিজেকে দূরে সড়িয়ে নিয়ে যান। কিন্তু পরের বছর অক্সফোর্ড থেকে ব্লু লাভ করেন। ১৮৮৭ সালে অক্সফোর্ডের সদস্যরূপে মিডলসেক্সের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৫০ রান তুলেন। এ পর্যায়ে কে. জে. কী’র সাথে সপ্তম উইকেট জুটিতে ৩৪০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। দারুণ খেলার সুবাদে একই বছর লর্ডস ও ওভালে অনুষ্ঠিত খেলায় জেন্টলম্যানের পক্ষে অংশ নেন। ১৮৮৯ সালে চার্চের ছাত্র ডব্লিউ. ডব্লিউ. রাশলেইয়ের পক্ষে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন।
অন্যতম সেরা উইকেট-রক্ষক ছিলেন। স্ট্যাম্পের খুব কাছাকাছি থেকে অধিকাংশ বোলারদের বল খুব সহজেই গ্লাভসবন্দী করতেন। ব্যাটসম্যান হিসেবে শুরুরদিকের প্রতিশ্রুতিশীলতা ধরে রাখতে পারেননি। তবে, ছন্দে থাকাকালে বেশ শক্ত প্রতিরক্ষাব্যূহ তৈরী করতেন ও প্রয়োজনে উইকেটের সামনে এসে স্বাভাবিকভাবে বলে সপাটে আঘাত করতেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৮৮৭ সাল থেকে ১৮৯৯ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৮৮৯ সালে জি. এফ. ভার্ননের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন।
১৮৯২ থেকে ১৮৯৫ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র পাঁচটি টেস্টে অংশগ্রহণে সুযোগ পেয়েছিলেন। দুইবার অস্ট্রেলিয়া গমন করেছিলেন। ১৮৯১-৯২ মৌসুমের শীতকালে লর্ড শেফিল্ডের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। মূল উইকেট-রক্ষক জর্জ ম্যাকগ্রিগরের সহকারী ছিলেন। ২৪ মার্চ, ১৮৯২ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। সফরকারীরা ইনিংস ও ২৩০ রানে জয় পেলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
তিন বছর পর ১৮৯৪-৯৫ মৌসুমে এ. ই. স্টডার্টের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। উদ্বোধনী টেস্টের পর এল. এইচ. গে’র পরিবর্তে খেলার সুযোগ পান। ১ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৫ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪ ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি স্ট্যাম্পিং ও একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণের সাথে নিজেকে জড়ান। ইনিংস ও ১৪৭ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-২ ব্যবধানে সমতায় আনতে সমর্থ হয়।
এরপর, সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে ইংল্যান্ডের ৬ উইকেটের বিজয়ে বিরাট ভূমিকা রেখে ৩-২ ব্যবধানে রাবার বিজয়ে অংশ নেন। ১ মার্চ, ১৮৯৫ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণের সাথে নিজেকে জড়ান। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
১৮৯৮ সাল পর্যন্ত মাঝে-মধ্যে মিডলসেক্সের পক্ষে খেলতেন। এরপর, নিজ কাউন্টি নর্দাম্বারল্যান্ডে খেলেন। ক্রিকেটার হিসেবে সর্বাধিক খ্যাতি লাভ করলেও আরও কয়েকটি খেলায় দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। এটনে র্যাকেটস চ্যাম্পিয়ন হন। অক্সফোর্ডের সদস্যরূপে কেমব্রিজের বিপক্ষে র্যাকেটস এবং টেনিসের একক ও দ্বৈত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। ১৮৯১ সালে র্যাকেটস অ্যামেচার চ্যাম্পিয়নশীপে পার্সি অ্যাশওয়ার্থকে পরাজিত করেছিলেন। ১৮৮৯ সালে সি. রিফোর্ড-ব্রাউন তাঁকে ফুল ব্যাক অবস্থানে ফুটবল খেলায় ব্লু দেন। এরফলে, তিনি অক্সফোর্ডের সদস্যরূপে কেমব্রিজের বিপক্ষে চারটি বল খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।
৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৫ তারিখে লন্ডনের হাইড পার্ক এলাকায় দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ৬৯ বছর ১৭৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
