২ নভেম্বর, ১৯৭৮ তারিখে রোডেশিয়ার সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৬ ফুট ৪ ইঞ্চি (১.৯৩ মিটার) দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী। সলসবারিতে জন্মগ্রহণ করলেও শৈশবকালে পরিবারের সাথে কেপটাউনে চলে যান। ফিশ হোক হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেন। বিদ্যালয় ক্রিকেটে ডানকান ফ্লেচারের দৃষ্টিগোচরীভূত হন ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সে খেলার জন্যে মনোনীত হন। মানসম্মত স্পিনারের সন্ধানে ব্যস্ত দক্ষিণ আফ্রিকা দলে তাঁর অন্তর্ভুক্তি স্বস্তির নিঃশ্বাস এনে দেয়। নিকি বোয়ে’র স্থলাভিষিক্ত হন ও সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনারদের আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করেন।

১৯৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ২০১২-১৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে সরব ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে লায়ন্স, নর্দার্নস, টাইটান্স ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে নশুয়া টাইটান্সের পক্ষে খেলোয়াড়ী জীবনের সূচনা ঘটান। ২০০৫-০৬ মৌসুমের সুপার স্পোর্ট সিরিজে অপূর্ব খেলেন। এক মৌসুমে ৪৯ উইকেট দখল করে ঘরোয়া পর্যায়ে রেকর্ড গড়েন ও জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ক্রমাগত ধারাবাহিক ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের সুবাদে ২০০৬ সালে কোলপ্যাক খেলোয়াড় হিসেবে ওয়ারউইকশায়ারের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। তবে, নিকি বোয়ে’র অবসর গ্রহণের পর সৃষ্ট শূন্যতা পূরণে দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁকে দলে অন্তর্ভুক্ত করে। ২০০৭ সালে ২৩.৮৬ গড়ে ২৯ উইকেট পেয়েছিলেন। অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের সুবাদে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান।

২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ৩৭ টেস্ট ও তিনটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০৬-০৭ মৌসুমে নিজ দেশে রাহুল দ্রাবিড়ের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২ জানুয়ারি, ২০০৭ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ক্লড হেন্ডারসনের স্থলাভিষিক্ত হন। লেগের দিকে বল ফেলে ভারতীয়দের বিভ্রান্ত করেন। ঐ টেস্টে স্বাগতিক দল জয়লাভ করে। তাঁর বোলিংকে ঘিরে রবি শাস্ত্রী মন্তব্য করেন যে, ‘ভারতীয় ব্যাটসম্যানেরা তাঁকে লর্ড হ্যারিসের আসনে বসায়।’ প্রথম ইনিংসে চার উইকেট ও দ্বিতীয় ইনিংসে রাহুল দ্রাবিড়কে বিদেয় করে খেলায় পাঁচ উইকেট দখল করেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৪/১২৯ ও ১/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। তবে, দলীয় অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ৫ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০০৮-০৯ মৌসুমে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৭ ডিসেম্বর, ২০০৮ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে আরটি পন্টিংয়ের প্রথম উইকেট লাভ করে টেস্টে ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ২/৭০ ও ৩/৮৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে মিচেল জনসনের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এবি ডি ভিলিয়ার্সের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে সফরকারীরা ৬ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই মৌসুমে নিজ দেশে ফিরতি সফরে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৯ মার্চ, ২০০৯ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন ও ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে বিডব্লিউ হিলফেনহসকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৫/৭৩। খেলায় তিনি ৩/৩৪ ও ৬/১২৭ পান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ২৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২০ রানে জয়লাভ করলে সফরকারীরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০১০ সালে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১০ জুন, ২০১০ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৫ ও ২/৯১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ডেল স্টেইনের অসাধারণ অল-রাউন্ড সাফল্যে স্বাগতিকরা ১৬৩ রানে পরাজয়বরণ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হবার পর টাইটান্সের পক্ষে খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন। তবে, দক্ষিণ আফ্রিকা দলে ফেরার মতো পর্যায়ে ছিলেন না। অতঃপর, জানুয়ারি, ২০১৩ সালে সকল স্তরের ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। টেস্টগুলো থেকে ১০৩ উইকেট দখল করেছিলেন।

২০১০-১১ মৌসুমে নিজ দেশে এমএস ধোনি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২ জানুয়ারি, ২০১১ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৭ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৭২ ও ০/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ২০২০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের পরামর্শদাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা যায়।

সম্পৃক্ত পোস্ট