৭ এপ্রিল, ১৯১৮ তারিখে বার্বাডোসের লেকস ফলি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
হ্যারিসনে থাকাকালে ক্রিকেটের সাধারণ নিয়ম-কানুন সম্পর্কে অবগত হয়েছিলেন ও খেলায় তা প্রয়োগ করতেন। ১৮ বছর বয়সে ১৯৩৬ সালে বিদ্যালয়ের প্রথম একাদশে খেলেন। ডানহাতে ব্যাটিং, লেগ-স্পিন ও গুগলি বোলার হিসেবে খেলতেন। ১৯৩৭-৩৮ মৌসুমে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত স্থানীয় ক্লাব স্পার্টানের সদস্যরূপে ত্রিনিদাদের বিপক্ষে খেলে ৪/১০৯ লাভ করেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোস এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্স ও নর্দাম্পটনশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩৭-৩৮ মৌসুম থেকে ১৯৬১ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।
১৯৩৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে খেলেছেন। ঐ বছর রল্ফ গ্র্যান্টের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড সফরে যান। ২৪ জুন, ১৯৩৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জেফ্রি স্টলমেয়ার, জন ক্যামেরন ও ব্যাম ব্যাম উইকসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ২২ জুলাই, ১৯৩৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/৫৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ১৯ আগস্ট, ১৯৩৯ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/৯৬ ও ১/৭৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
অপ্রত্যাশিতভাবে এ সফরে বেশ ভালো খেলেন। দ্রুতগতিসম্পন্ন লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে ৮৭ উইকেট পেয়েছিলেন। তবে, টেস্টগুলো থেকে মাত্র ছয়টি উইকেট দখল করেছিলেন।
দীর্ঘকাল বিবিসি’র সাথে জড়িত ছিলেন। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে বিবিসি’র সংবাদদাতা ও পরবর্তীতে ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বিবিসি স্পোর্টস ক্লাবের সদস্য ছিলেন ও প্রায় ৩০ বছর দেশের আনাচে-কানাচে খেলেছেন। অনেকবার দলটির অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রায় ৭০ বছর বয়সে এসেও বিবিসি’র পক্ষে খেলেছেন। প্রায়শঃই রবিবারের চ্যাম্পিয়নশীপের খেলায় অংশ নিতে রেলভ্রমণ করতেন। এ দীর্ঘ সময়কালে প্রায় তিন হাজার উইকেট দখল করেছেন। এক পর্যায়ে শেষ বর্ষে বিবিসি ক্লাবের ফার্স্ট ইলাভেন বোলিং কাপ জয় করেন।
খেলোয়াড়ী জীবন শেষে চিকিৎসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ২১ বছর বয়সে লন্ডনভিত্তিক গাইজ হাসপাতালে চিকিৎসার্থে পড়ার জন্যে আমন্ত্রিত হন ও ঐ বছরের অক্টোবরে এ প্রস্তাবে সাড়া দেন। ১৯৪৬ সালে চিকিৎসক হন ও মধ্য লন্ডনে পিমলিকো এলাকায় চিকিৎসা পেশাকে বেছে নেন। ১৯৮৩ সালে লন্ডনের ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান সম্প্রদায়ে অনবদ্য ভূমিকা পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ ওবিই পদবীতে ভূষিত হন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ১৯৪৮ সালে এলমা এডিসন নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির ম্যাডেলিন নাম্নী এক কন্যা ছিল। ১৪ অক্টোবর, ১৯৯৩ তারিখে লন্ডনের পুটনি এলাকায় ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ৭৫ বছর ১৯০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
