|

প্রায়র জোন্স

৬ জুন, ১৯১৭ তারিখে ত্রিনিদাদের প্রিন্সেস টাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে সবিশেষ পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, দূর্দান্ত ফিল্ডিং করতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

কার্যকর মিডিয়াম-ফাস্ট বোলার হিসেবে বলকে উভয় দিক দিয়েই ফেলতে পারতেন। তবে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে তাঁর বিশের বয়সের অধিকাংশ সময়ই নষ্ট হয়ে যায়। এরপর, ত্রিশের বয়সে এসে সনি রামাদিনআল্ফ ভ্যালেন্টাইনের সাথে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয়েছিল।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৪০-৪১ মৌসুম থেকে ১৯৫০-৫১ মৌসুম পর্যন্ত এক দশককাল প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।

১৯৪৮ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেছিলেন। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে নিজ দেশে গাবি অ্যালেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২১ জানুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ক্লাইড ওয়ালকট, বার্কলি গাসকিন, এভারটন উইকস, জন গডার্ড, রবার্ট ক্রিস্টিয়ানি ও উইল্ফ ফার্গুসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৪/৫৪ ও ০/২৯ লাভ করেছিলেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১০* ও ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

পরবর্তী শীতকালে ভারত সফরে যান ও তুলনামূলকভাবে ভালো খেলেন। ১৯৫০ সালে ইংল্যান্ড সফরে তাঁর কাছ থেকে বেশ প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। কিন্তু, দুইটিমাত্র খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান ও বল হাতে খুব কমই সফল হয়েছিলেন।

১৯৫১-৫২ মৌসুমে জন গডার্ডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমনের সুযোগ পান। ৩০ নভেম্বর, ১৯৫১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৩/৬৮ ও ০/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১ ও ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৭ উইকেটে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

২১ নভেম্বর, ১৯৯১ তারিখে ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনে ৭৪ বছর ১৬৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট