৩ এপ্রিল, ১৯৮৯ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। বোলিংয়ের দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটান। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
চটপটে ডানহাতি মিডিয়াম ফাস্ট বোলার ও বামহাতি কার্যকরী মারকুটে ব্যাটসম্যান। বোলার হিসেবে খেললেও মাঝারিসারিতে নিচেরদিকে খেলার মাঝামাঝি পর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখছেন। এছাড়াও, ইনিংসের শেষদিকে চমৎকারভাবে ইতি টানতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। তবে, পেস বোলিংয়ে মাঝে-মধ্যেই দূর্বলতা লক্ষ্য করা যায়। ওয়াত্তালাভিত্তিক সেন্ট অ্যান্থনিজের পক্ষে অধ্যয়নকালীন ক্রিকেটের সাথে জড়িয়ে পড়েন। এরপর, বৃত্তি নিয়ে মারাদানাভিত্তিক সেন্ট জোসেফস কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ৩৫ বছরের অধিক সময় ধরে চলা ব্যাটল অব দ্য সেন্টসে সেন্ট পিটার্স কলেজের বিপক্ষে দলের সাফল্যে প্রধান ভূমিকা রেখেছিলেন।
৬ ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ২০০৮-০৯ মৌসুম থেকে ২০১৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে ওয়েয়াম্বা ও কোল্টস ক্রিকেট ক্লাব এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, এশিয়া লায়ন্স, আইসিসি বিশ্ব একাদশ, জাফনা স্ট্যালিয়ন্স, জাফনা কিংস, কলম্বো স্ট্রাইকার্স, শ্রীলঙ্কা আর্মি স্পোর্টস ক্লাব, শ্রীলঙ্কা এ, শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯, কিংস ইলাভেন পাঞ্জাব, কোচি তুস্কার্স কেরালা, চেন্নাই সুপার কিংস, চেন্নাই ব্রেভস, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ, রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, ঢাকা প্লাটুন, ঢাকা ক্যাপিটাল, খুলনা টাইগার্স, সিলেট স্ট্রাইকার্স, গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স, বার্বাডোস রয়েলস, সেন্ট কিটস ও নেভিস প্যাট্রিয়টস, সেন্ট লুসিয়া জুকস, মেলবোর্ন রেনেগাডেস, মন্ট্রিল টাইগার্স, মুলতান সুলতান্স, করাচী কিংস, কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স, লাস ভেগাস এইসেস, টেক্সাস চার্জার্স, মণিপাল টাইগার্সের পক্ষে খেলেছেন।
২০০৯ সাল থেকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২৪ ডিসেম্বর, ২০০৯ তারিখে প্রথমবারের মতো সীমিত-ওভারের ক্রিকেটে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। এ পর্যায়ে ভারতে সফররত শ্রীলঙ্কা দলের অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের পরিবর্তে জরুরীভিত্তিতে স্থলাভিষিক্ত করা হয়। এরপর, ২০১০ সাল থেকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে ক্ষুদ্র সংস্করণের ক্রিকেটে অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে রয়েছেন।
শ্রীলঙ্কার একদিনের আন্তর্জাতিক দলে নিয়মিত সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০১২ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে হ্যাট্রিক করেন। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় চার খেলায় অংশ নেন। এরপর, ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয়বারের মতো অংশগ্রহণ করেছিলেন।
একদিনের আন্তর্জাতিকে নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পেলেও টেস্ট দলে এ ধারা অব্যাহত রাখতে পারেননি। ২০১১ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ছয়টি টেস্টে অংশ নিলেও তারপর থেকে দীর্ঘ সংস্করণের খেলা থেকে বিরত রয়েছেন। ২০১১ সালে তিলকরত্নে দিলশানের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৬ মে, ২০১১ তারিখে কার্ডিফে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২৫ ও ২০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ০/৮১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, জোনাথন ট্রটের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৪ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০১২ সালে নিজ দেশে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৮ জুলাই, ২০১২ তারিখে পাল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৪/৬৩ ও ০/৮৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ পেয়ে ৭৫ রান সংগ্রহ করেন। তবে, আসাদ শফিকের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীতে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে পরাভূত হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
জুলাই, ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সীমিত-ওভারের সিরিজ থেকে বাদ পড়েন। তবে, পাকিস্তানের বিপক্ষে পরবর্তী ওডিআই সিরিজেই দলে ফিরে আসেন। বোলিং ও মারকুটে ব্যাটিংয়ে দলে প্রভাব ফেলেন। ১৬৯.৫৬ গড়ে ৭৮ রান তুলেন ও ১০.৬৬ গড়ে সিরিজে নয় উইকেট দখল করেছিলেন।
এর পূর্বেকার অস্ট্রেলিয়া সফরেও ব্যাটে-বলে সম্যক ভূমিকা রাখেন। ভারতের বিপক্ষেই তিনি সেরা খেলাগুলো প্রদর্শন করেছিলেন। ২০১৪ সালের বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় ছক্কা হাঁকিয়ে শ্রীলঙ্কা শিরোপা বিজয় নিশ্চিত করেন। ওডিআই ও টি২০তে হ্যাট্রিক করেছেন।
আইপিএলে $৫০,০০০ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে চেন্নাই সুপার কিংস কর্তৃপক্ষে তাঁকে দলে অন্তর্ভুক্ত করে। ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০ তারিখে এলপিএল টুর্নামেন্টের সেরা দলে দানুষ্কা গুণাতিলকা ও আন্দ্রে রাসেলের সাথে তাঁকে রাখা হয়। ঐ বছর এলপিএলের উদ্বোধনী আসরে জাফনা স্ট্যালিয়ন্সের শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন।
