১৩ মে, ১৯৭৮ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
লিকলিকে গড়নের ছন্দোবদ্ধ ভঙ্গীমায় বোলিংকর্মে অগ্রসর হতেন। নিজের সেরা দিনগুলোয় তাঁকে রুখা বেশ কঠিন ছিল। বামহাতি সিমার হিসেবে শুরু থেকেই শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে সুইংয়ে পারঙ্গমতা প্রদর্শনে স্বীয় প্রতিশ্রুতিশীলতা স্বাক্ষর রেখেছিলেন। এরপর থেকেই একই ধারা বহমান রাখেন। দীর্ঘদিনের খেলোয়াড়ী জীবনে আঘাত ও ছন্দহীনতার কবলে পড়লেও মাঠে মাঝে-মধ্যেই অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করতেন। ফাস্ট বোলিং জগতে স্বীয় নামকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
১৯৯০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার বিদ্যালয়ভিত্তিক ক্রিকেটে অনেক প্রতিশ্রুতিশীল তরুণের শীর্ষে আরোহণ করেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ২০০৯-১০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে বাসনাহিরা সাউথ ও সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাব এবং বাংলাদেশী ক্রিকেটে খুলনা বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ডেকান চার্জার্সের পক্ষে খেলেছেন। অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র দৃষ্টিগোচরে পড়েন ও সম্মুখসারিতে থেকে কলম্বোভিত্তিক সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাবের পক্ষে খেলতে থাকেন। ১৯৯৭ সালে জাতীয় দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন।
১৯৯৭ থেকে ২০০৭ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বমোট ৩০ টেস্ট ও ৯৫টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ৭ মার্চ, ১৯৯৭ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১/১১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ১৬* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, ব্রায়ান ইয়ংয়ের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৩৬ রানে জয় পেয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ১৪ মার্চ, ১৯৯৭ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সাথে নিজেকে জড়ান। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক এসপি ফ্লেমিংকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বতন সেরা ছিল ১/১১২। খেলায় তিনি ৩/৪৭ ও ৩/৫৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১২০ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। একই সফরের ২৫ মার্চ, ১৯৯৭ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।
১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের অন্যতম সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৭ মার্চ, ১৯৯৮ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১/২৯ ও ০/১১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ১৪ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। অ্যালান ডোনাল্ডের অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যে সফরকারীরা ৬ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৯৯ সালে নিজস্ব অষ্টম টেস্টে হ্যাট্রিক করার গৌরব অর্জন করেন। খেলার প্রথম ওভারেই বিরল এ সফলতার অধিকারী হন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে হারারেতে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এ কৃতিত্ব লাভ করেন। শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান – ট্রেভর গ্রিপার, মারে গুডউইন ও নীল জনসন তাঁর শিকারে পরিণত হয়েছিলেন।
তবে, পিঠের আঘাতের পাশাপাশি খেলার মান ও শারীরিক সুস্থতা তাঁর স্বাভাবিক খেলায় বিঘ্নের সৃষ্টি করেন। বলে পেস আনয়ণে ব্যর্থ হন ও এক পর্যায়ে দল থেকে বাদ পড়েন। এ সময়ে নিজেকে মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে চিত্রিত করেন। দলে প্রত্যাবর্তনের পর বোলার ও খেলা সমাপণকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে চামিণ্ডা ভাসের সাথে ভয়ঙ্কর জুটি গড়ে তুলেছিলেন।
২০০০-০১ মৌসুমে সনথ জয়সুরিয়া’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ২০ জানুয়ারি, ২০০১ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। খেলার দ্বিতীয় দিন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক এসএম পোলককে বিদেয় করে ব্যক্তিগত পূর্বতন সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৩/২২। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৪/৭৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১ ও ২ রান সংগ্রহ করেন। শন পোলকের অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ঐ খেলায় সফরকারীরা ইনিংস ও ৭ রানে পরাজয়বরণ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০০২ সালে ইংল্যান্ড গমন করেন। তবে, এ সফরে তেমন সুবিধে করতে পারেননি ও দল থেকে বাদ পড়েন। কিন্তু, কঠোর প্রশিক্ষণে নিজেকে আরও ঝালাই করে পুণরায় দলে প্রত্যাবর্তন করতে সমর্থ হন। পেস ও বাউন্সে পিচে ঝড় তুলেন। প্রধান অস্ত্র হিসেবে ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বাঁকানো বলেই অধিক সফল ছিলেন।
বলেই মূলতঃ সফল ছিলেন। পাশাপাশি, নিচেরসারির কার্যকরী স্ট্রোক খেলে নিজের পরিচিতি ঘটাতে সচেষ্ট থাকতেন। ২০০৩ সালে কেনিয়ায় ‘এ’ দলের সফর মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবেও ভূমিকা রাখেন। এরপর, ২০০৩-০৪ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআই সিরিজে দলে ফিরে আসেন। সিরিজের চূড়ান্ত খেলায় ৪৭ রানের ইনিংস খেলে দলের জয়ে দারুণ ভূমিকা রাখেন।
২০০৪ সালে মারভান আতাপাত্তু’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ৬ মে, ২০০৪ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ৩/৫৩ ও ৫/২০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মুত্তিয়া মুরালিধরনের অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে সফরকারীরা ইনিংস ও ২৪০ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০০৪ সালে মারভান আতাপাত্তু’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৯ জুলাই, ২০০৪ তারিখে কেয়ার্নসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ০/৭২ ও ২/৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ম্যাথু হেইডেনের জোড়া শতক স্বত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও স্বাগতিকরা সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
তাঁর বোলিংয়ের সুন্দর ধারাও অব্যাহত ছিল। ২০০৪-০৫ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওডিআই সিরিজে পাঁচ-উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙ্গে ফেলেন। হাঁটুর আঘাতের কারণে ২০০৭ সালে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা থেকে ফিরে আসতে হয় ও বেশ আগেভাগেই খেলোয়াড়ী জীবনকে বিদেয় জানাতে হয়।
আইপিএলের উদ্বোধনী আসরে ডেকান চার্জার্সের পক্ষে কয়েকটি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ৩১ অক্টোবর, ২০১৮ তারিখে আইসিসি’র দূর্নীতিবিরোধী কোডে অভিযুক্ত হন। অতঃপর, ১৯ নভেম্বর, ২০২০ তারিখে তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন।
