১৫ মার্চ, ১৯৬২ তারিখে অকল্যান্ডের মাউন্ট ইডেনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
লিকলিকে গড়নের অধিকারী ও নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৮৩ থেকে ১৯৯১ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ২১ টেস্ট ও তিনটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন।
১৯৮৩ সালে জিওফ হাওয়ার্থের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৫ আগস্ট, ১৯৮৩ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ২ ও ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। নিক কুকের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ১৬৫ রানে জয় পেলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্টে অংশ নেন। ঐ মৌসুমে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে ওয়েলিংটনের ব্যাসিন রিজার্ভে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ক্রেগ ম্যাকডারমটের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
দর্শকদের বিরক্তির পাত্রে পরিণত হলেও বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন। আঘাতের কবলের পড়লে বেশ দূর্ভাগ্যের পাত্রে পরিণত হন। ১৯৮৬ সালে গ্যাটউইক বিমানবন্দরে দ্রুতগতিতে হাঁটাকালে পিছলে পড়ে যান। এরফলে, প্রায় দুই বছর কোন টেস্টে অংশ নিতে পারেননি। এছাড়াও ঐ সফরে তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুল ভেঙ্গে যায়।
১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক গ্যাটিংয়ের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৮ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১২ রান অতিক্রম করেন। এরপর, দ্বিতীয় ইনিংসেও পূর্বতন সংগ্রহকে ছাঁপিয়ে যান। খেলায় তিনি ২৭ ও ৬২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, জন রাইটের অনবদ্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে জন রাইটের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে প্রথমবারের মতো ভারত সফরে যান। ১২ নভেম্বর, ১৯৮৮ তারিখে ব্যাঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৮ ও ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১৭২ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯৯০ সালে জন রাইটের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। অনেকটা বিস্ময়করভাবে লর্ডস অনার্স বোর্ডে নিজের নামকে ঠাঁই করে নিয়েছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবনে এটিই তাঁর প্রথম ও শেষ শতক ছিল। ২১ জুন, ১৯৯০ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ১০১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। একই খেলায় তাঁর সঙ্গী জন রাইট ৯৮ রান তুলেন ও অল্পের জন্যে শতক হাঁকানো থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। কিউই দল ঐ টেস্টে একচ্ছত্র প্রাধান্য বিস্তার করলেও স্বাগতিক ইংল্যান্ড দল খেলায় ড্র করতে সক্ষম হয়।
একই সফরের ৫ জুলাই, ১৯৯০ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে যুক্ত রাখেন। প্রথম ইনিংসে ২ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৬৬ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ডেভন ম্যালকমের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১১৪ রানে পরাজিত হলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৯০-৯১ মৌসুমে মার্টিন ক্রো’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে প্রথমবারের মতো পাকিস্তান সফরে যান। ১০ অক্টোবর, ১৯৯০ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ১৬ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। শোয়েব মোহাম্মদের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৪৩ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই মৌসুমে নিজ দেশে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ১ মার্চ, ১৯৯১ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১৩ ও ৩১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। অরবিন্দ ডি সিলভা’র অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে মাত্র ২৩ গড়ে রান পেয়েছিলেন। প্রতি ১০০ বলে ২৭ রান তুলতে পেরেছিলেন। এরফলে, ক্রিস টাভারে’র ৩৩ ও জিমি অ্যাডামসের ৩৮ রান সংগ্রহের চেয়ে মন্থরগতিতে শীর্ষে অবস্থান করেন। ওভারপ্রতি মাত্র ১.৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন।
