১ আগস্ট, ১৯০০ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের টিটোবার্গ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা প্রদর্শন করেছেন। ১৯২০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

প্রুশীয় স্থপতি কার্ল মার্টিন নথলিং ও কুইন্সল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী মেরি উইলহেইম দম্পতির ষষ্ঠ সন্তান ছিলেন। ওমবাই স্টেট স্কুল থেকে বৃত্তি নিয়ে ব্রিসবেন গ্রামার স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি রাগবি ইউনিয়ন ফুটবল ও অ্যাথলেটিক্সে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তন্মধ্যে, ১৯১৮ সালে প্রথম পঞ্চদশ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত সেন্ট অ্যান্ড্রু কলেজে অধ্যয়ন করেন। এ পর্যায়ে অ্যাথলেট হিসেবে নিজেকে উপস্থাপিত করেন। বর্শানিক্ষেপ ও গোলকনিক্ষেপে রেকর্ড গড়েন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রিকেট ও রাগবিতে অংশ নেন। ১৯২৬ সালে এম.বি., সিএইচ.এম, লাভ করেন।

দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী ছিলেন। ১৯২২-২৩ মৌসুম থেকে ১৯২৯-৩০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে কুইন্সল্যান্ড ও নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন শুরু করেন। ১৯২২-২৩ মৌসুমে মেলবোর্নে কম্বাইন্ড অস্ট্রেলিয়ান ইউনিভার্সিটিজের সদস্যরূপে সফররত এমসিসি দলের বিপক্ষে ৫৬ রান সংগ্রহসহ পাঁচ উইকেট লাভ করে নিজেকে প্রথমবারের মতো মেলে ধরেন। ঐ মৌসুমসহ ১৯২৪-২৫ মৌসুমে সিডনির প্রথম স্তরের ক্রিকেটে সেরা বোলিং গড়ের সাথে নিজেকে জড়ান। ১৯২৪-২৫ মৌসুমে সিডনিতে নিউ সাউথ ওয়েলসের সদস্যরূপে এমসিসি’র বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথম খেলেন। এর অল্প কয়েকদিন পর শেফিল্ড শীল্ডে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।

১৯২৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯২০-এর দশকে ২৮ টেস্ট অনুষ্ঠিত হয় ও দূর্ভাগ্যজনকভাবে ৩জন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে একটিমাত্র টেস্ট খেলার সুযোগ পান। ঐ বছর নিজ দেশে পার্সি চ্যাপম্যানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৪ ডিসেম্বর, ১৯২৮ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ডন ব্ল্যাকি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়েছিল। খেলায় তিনি ৮ ও ৪৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৬০ ও ০/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেটের বাইরে চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। নিউ সাউথ ওয়েলসের পক্ষে রাগবিতে ফুল-ব্যাক অবস্থানে খেলতেন। ১৯২১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনবার এবং ১৯২১ ও ১৯২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দশবার খেলেছেন। এছাড়াও, ছয়বার মাওরি দলের বিপক্ষে খেলেন। ১৯২৪ সালে রাগবি থেকে অবসর গ্রহণের পর ক্রিকেটে মনোনিবেশ ঘটান।

২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৫ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের চেলমার এলাকায় ৬৫ বছর ৫৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট