১৮ মে, ১৯২৫ তারিখে চেশায়ারের জি ক্রস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী শৌখিন ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৯৫০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৪৬ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। তবে, কেবলমাত্র ১৯৪৮ সালেই তাঁর ব্যাটিংয়ের দক্ষতা লক্ষ্য করা যায়। এ পর্যায়ে তিনি সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শের কাছাকাছি পর্যায়ে উপনীত হয়েছিলেন। ১৯৫০ সালে এ সংগ্রহকে ছাঁপিয়ে যান। ৩৬.৬৮ গড়ে ১১২৪ রান তুলেছিলেন। এরপর, ল্যাঙ্কাশায়ারের সর্বকনিষ্ঠ অধিনায়ক হিসেবে স্বীকৃতি পান। এ বছর তাঁর নেতৃত্বে ল্যাঙ্কাশায়ার দল কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে যৌথভাবে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে আরোহণ করে।

১৯৫১ থেকে ১৯৫২ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৫১-৫২ মৌসুমে দ্বিতীয়সারির এমসিসি দলের অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ভারত ও পাকিস্তান গমন করেন। তবে, অসুস্থতার কারণে পাকিস্তানের মাটিতে কোন টেস্টে অংশগ্রহণ করেননি।

অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলোর সবকটিই ভারতের মাটিতে খেলেছেন। ২ নভেম্বর, ১৯৫১ তারিখে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ডন কেনিয়ন, ডিক স্পুনার, ডোনাল্ড কার ও ফ্রেড রিজওয়ে’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, খেলায় প্রভাববিস্তার করতে তাঁকে বেশ হিমশিম খেতে হয়েছিল। খেলায় তিনি ১৩ ও ৯ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে বিনু মানকড়ের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে ফলাফলবিহীন অবস্থায় সিরিজটি অগ্রসর হতে থাকে।

এছাড়াও, এ সিরিজেই ভারত দল মাদ্রাজে তাদের ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম টেস্টে জয়ের সন্ধান পায়। তবে, ফুসফুসের সংক্রমণের কারণে ঐ টেস্টে তিনি খেলেননি।

১৯৫১-৫২ মৌসুমে দ্বিতীয়সারির এমসিসি দলের অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ভারত ও পাকিস্তান গমন করেন। ১২ জানুয়ারি, ১৯৫২ তারিখে কানপুরে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৮ উইকেটে জয় পেলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ইংল্যান্ডের পক্ষে আর কোন খেলায় অংশগ্রহণের সম্ভাবনা না থাকায় ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে খেলা চলমান রাখেন। তবে, টেস্টে অপরাজিত অবস্থায় দলের নেতৃত্বে থেকে খেলোয়াড়ী জীবন শেষ করেন। দ্য গার্ডিয়ানের লেখক অ্যান্ডি বুল একদা মন্তব্য করেছিলেন যে, ল্যাঙ্কাশায়ারীয় নাইজেল হাওয়ার্ড ‘ইংল্যান্ডের সর্বশেষ প্রকৃত শৌখিন অধিনায়ক ছিলেন’।

১৯৫৩ সালে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর, ১৯৫৪ সালে টেক্সটাইল ব্যবসায়ের সাথে জড়িত হন। তাসত্ত্বেও, ল্যাঙ্কাশায়ারের ক্রিকেট কমিটির সাথে যুক্ত থেকে বেশ কয়েক বছর ক্রিকেটে অবদান রাখতে থাকেন। এছাড়াও, হকি ও গল্ফে তাঁর দক্ষতা ছিল।

৫৪তম জন্মদিন উদযাপনের ১৩ দিন পর ৩১ মে, ১৯৭৯ তারিখে ৫৪ বছর ১৩ দিন বয়সে আইল অব ম্যানের ডগলাসে তাঁর আকস্মিক দেহাবসান ঘটে। ১৯৭৬ সালে ব্যবসায় জগৎ থেকে অবসর নেয়ার পর থেকে তিন বছর সেখানে বসবাস করছিলেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট