২ নভেম্বর, ১৮৯১ তারিখে ডার্বিশায়ারের স্কারক্লিফ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, আম্পায়ার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২০ থেকে ১৯৪৭ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। নটিংহ্যামশায়ারের ওয়াইজটন হলে স্যার যোসেফ লেকক ইয়র্কশায়ারের অধিনায়ক স্যার আর্চিবল্ড হোয়াইটের কাছে সুপারিশ করলে তিনি ডার্বিশায়ার দলে যুক্ত হন। ১৯২০ সালে এসেক্সের বিপক্ষে প্রথম খেলতে নেমে উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন। তাৎক্ষণিকভাবে দলে স্থান নিশ্চিত করেন ও জর্জ বিটের স্থলাভিষিক্ত হন। কিন্তু, ব্যাটসম্যান হিসেবে শুরুরদিকে প্রতিশ্রুতিশীলতা পরবর্তীতে আর পূর্ণাঙ্গতা পায়। তাসত্ত্বেও, দলের সঙ্কটে দারুণ ভূমিকা রাখতেন।
ডার্বিশায়ারের পক্ষে ১৯২৮ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে ১৯৪ খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। এরই মাঝে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট খেলায় অংশ নেয়ার ফলে এর ছেদ ঘটে। এরপর থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত ক্রমাগত ২৩২ খেলায় অংশ নেন। এ বছর আঘাতের কবলে পড়েন।
১৯২৮ থেকে ১৯৩৪ সময়কালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র চারটি টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯২৭-২৮ মৌসুমে জি. আর. জ্যাকসনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। শুরুতে দল থেকে নাম প্রত্যাহার করা আর. টি. স্ট্যানিফোর্থের স্থলাভিষিক্ত হন। তবে, ঐ সিরিজে তাঁর খেলার সম্ভাবনা সীমিত হয়ে পড়ে।
৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৮ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টেস্টে অংশ নেন। এডি ডসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। স্বাগতিক দল ৪০১ রান তুললেও তিনি মাত্র চারটি বাই-রান দিয়েছিলেন। খেলায় তিনি ১ ও ৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে ২-২ ব্যবধানে অমিমাংসিত অবস্থায় সিরিজ শেষ করতে সক্ষম হয়।
এছাড়াও, ১৯৩৩-৩৪ মৌসুমে ডি. আর. জার্ডিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে ভারত সফর করেন। দুই টেস্টে অংশ নিয়ে ছয়টি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন ও তিনটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে যুক্ত করেন। ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৪ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি স্ট্যাম্পিং ও সমসংখ্যক ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। স্বাগতিকরা ২০২ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ার জগতে প্রবেশ করেন। ৭টি টেস্ট ও ৩৮টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা পরিচালনা করেছেন। তবে, ১৯৪৭ সালে কোচ হিসেবে মনোনীত হলে আম্পায়ারিত্ব করা থেকে দূরে থাকেন। প্রায় ৫৬ বছর বয়সে এসে চারটি খেলায় উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে এসে ১৯৩৬ সালের চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ী দলের পুণর্মিলনীতে যোগ দেন ও ১৮৯১ সালে তাঁর জন্মগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। ১৯৫২ সালে আম্পায়ারের তালিকায় পুণরায় যুক্ত হন ও ১৯৬০ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব চালিয়ে যান।
২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৬ তারিখে ডার্বিতে ৮৪ বছর ৯২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। সি. এস. এলিয়ট সম্পর্কে তাঁর ভ্রাতৃষ্পুত্র।
