৪ ডিসেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে পাঞ্জাবের ফয়সালাবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ফজল-ই-আকবরের ন্যায় বিদ্যালয়ের ছাত্র অবস্থাতেই ফাস্ট-মিডিয়াম পেসার হিসেবে ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত প্রতাপে খেলেছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁদের সফলতা নিয়ে ক্রিকেটবোদ্ধাদের কোন সন্দেহ ছিল না। তাঁর পেসে সুইং ও বলকে সিম করার ক্ষমতা ছিল। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম থেকে ২০১১-১২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে ফয়সালাবাদ, গুজরানওয়ালা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন, হাবিব ব্যাংক লিমিটেড ও পাকিস্তান ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, আইসিএল পাকিস্তান একাদশ, লাহোর বাদশাহ ও নর্দাম্বারল্যান্ডের পক্ষে খেলেছেন।
১৯৯৬ থেকে ২০০৭ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বমোট ১৫ টেস্ট ও ১৭টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেলের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৭ অক্টোবর, ১৯৯৬ তারিখে শেখুপুরায় অনুষ্ঠিত সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অংশ নেন। আজম খানের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় সাত উইকেট পান। ৫/৫৩ ও ২/৪৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ওয়াসিম আকরামের ২৫৭ রানের কল্যাণে তাঁর এ সাফল্য ম্লান হয়ে পড়ে। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। এটিই তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের প্রধান সফলতা ছিল।
উপযোগী পরিবেশে বিশেষতঃ ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমের ত্রি-দেশীয় কার্লটন ও ইউনাইটেড সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে, এ পর্যায়ে উদীয়মান মোহাম্মদ জাহিদের সাফল্যে ঢাকা পড়ে যায়। পাতানো খেলায় জড়ানো, ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনুসের খেলার মান নিচের দিকে চলে যাবার পাশাপাশি আকিব জাভেদের দূর্বল ক্রীড়াশৈলী ও দলে ভাঙনের ফলে শহীদ নাজিরের দলে স্থান লাভের সেরা সুযোগ এনে দেয়। তবে, তিনি এ সুযোগ নিতে পারেননি। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে ঠিকই নিজেকে মেলে ধরতে তৎপরতা দেখান। কিছু সময়ের জন্যে তাঁর এ খ্যাতির কারণে ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার পর আঘাতে জর্জড়িত দলে প্রথম পছন্দের পেস আক্রমণের ভূমিকায় তাঁকে নজরে রাখা হয়।
২০০৫ সালে তাঁকে পুণরায় দলে ফিরিয়ে আনা হয়। কিছু সময় তিনি কোন ভূমিকাই রাখতে পারেননি। তবে, ২০০৬ সালে ইংল্যান্ড সফরে শীর্ষসারির তিনজন পেসারের অনুপস্থিতিতে তাঁকে সবসময়ই দলে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ এনে দিয়েছিল। হেডিংলিতে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। সর্বশেষ টেস্ট খেলার পর সাত বছরের মধ্যে এটিই প্রথম ছিল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ খেলেন। এরপর, ২০০৬-০৭ মৌসুমে ইনজামাম-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। তন্মধ্যে, ১৪ জানুয়ারি, ২০০৭ তারিখে সেঞ্চুরিয়ন পার্কে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত টেস্টে ব্যক্তিগত সেরা ৪০ রান তুলেন। তবে, পাঁচ খেলায় তিনি মাত্র তেরো উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন।
একই সফরের ২৬ জানুয়ারি, ২০০৭ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ৩ ও ২৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৩৭ ও ১/৪২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, জ্যাক ক্যালিসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৫ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
মোহাম্মদ আসিফ ও উমর গুলের আবির্ভাবে তাঁর দলে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়াও, অনুমোদনবিহীন ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লীগে অংশগ্রহণের ফলে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন কার্যতঃ শেষ হয়ে যায়।
