১৫ অক্টোবর, ১৯৮৮ তারিখে পাঞ্জাবের ফয়সালাবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
২০০৫ সালে প্রথমবারের মতো সকল নজর কাড়েন। বিশাখাপত্তনমে অনুষ্ঠিত আফ্রো-এশিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ কাপ প্রতিযোগিতায় দারুণ খেলা উপহার দেন। শুরুতে উইকেট না পেলেও বিশেষ ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন। এরপর থেকে, আকিব জাভেদের সাহচর্য্যে আরও ব্যাপকভাবে নিজেকে মেলে ধরতে তৎপর হন। ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমিতে বেশ ভালো খেলেন। পরবর্তীতে, আগস্ট, ২০০৮ সালে জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়া গমনার্থে পাকিস্তান একাডেমি দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন।
বেশ লিকলিকে গড়নের অধিকারী। তেমন পেস না থাকলেও সুনিয়ন্ত্রিত পন্থা অবলম্বনে বোলিং কর্মে অগ্রসর হন। ২০০৭ সালের পর থেকে বেশ দ্রুতলয়ে নিজেকে জাতীয় দলে খেলার উপযোগী করে তুলেন। ২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে ফয়সালাবাদ, পাকিস্তান ন্যাশনাল ব্যাংক ও পোর্ট কাসিম অথরিটির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ফয়সালাবাদ উল্ভস ও পাঞ্জাব স্ট্যালিয়ন্সের পক্ষে খেলেছেন।
প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের শুরুটাও দারুণভাবে করেছিলেন। ডিসেম্বর, ২০০৮ সালে পেন্টাগুলার ওডিআই কাপে পাঞ্জাব স্ট্যালিয়ন্সের পক্ষে খেলেন। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে বেশ কিছু দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পান।
২০০৯ থেকে ২০১৪ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট ও তিনটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০৮-০৯ মৌসুমে নিজ দেশে মাহেলা জয়াবর্ধনে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ১ মার্চ, ২০০৯ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এ টেস্টে শ্রীলঙ্কান খেলোয়াড়েরা হামলার শিকারে পরিণত হয়েছিল। ফলে, খেলাটি পরিত্যক্ত হয় ও সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।
টেস্ট অভিষেক পর্বটি ম্রিয়মান হলেও পাঁচ বছর পর ২ মার্চ, ২০১৪ তারিখে ওডিআই অভিষেকে নিজেকে কিছুটা স্মরণীয় করে রাখেন। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ প্রতিযোগিতায় ভারতের বিপক্ষে ঐ খেলায় পাকিস্তান দল এক উইকেটে জয় পায়। অজিঙ্কা রাহানে ও রোহিত শর্মাকে বিদেয় করে ৭ ওভারে ২/২২ লাভ করেন। দলের সদস্য থাকলেও পরবর্তীতে আর তাঁকে খেলানো হয়নি। মোহাম্মদ আমির ও জুনায়েদ খানের ন্যায় খেলোয়াড়দের সাথে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয়। এছাড়াও, উদীয়মান হাসান আলী’র উত্থানে তাঁর অংশগ্রহণ তিরোহিত হয়ে পড়ে।
২০১৪-১৫ মৌসুমে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ২৬ নভেম্বর, ২০১৪ তারিখে শারজায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ০/১৩৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ১৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, মার্ক ক্রেগের অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীতে নিউজিল্যান্ড দল ইনিংস ও ৮০ রানে জয় পেলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষিত হলেও প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট ও লিস্ট-এ ক্রিকেটে দূর্দান্ত খেলেন।
