৭ ডিসেম্বর, ১৯৮২ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার সুবিয়াকো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে রিস্ট-স্পিন বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ২০০০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
হৃদযন্ত্রের সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে তাঁর অস্ত্রোপচার করতে হয়। নিয়মিতভাবে তিনি পর্যবেক্ষণে থাকতেন ও প্রশিক্ষণে নিজেকে মানিয়ে নেন। ‘বাজ’ ডাকনামে ভূষিত বো ক্যাসন ১.৭৮ মিটার উচ্চতার অধিকারী। ২০০২-০৩ মৌসুম থেকে ২০১১-১২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস এবং ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ৫৩ খেলায় অংশ নিয়ে ৪৩.০৪ গড়ে ১২৩ উইকেট লাভ করেন। ২০০৭-০৮ মৌসুমের শেফিল্ড শীল্ডের শিরোপা বিজয়ী নিউ সাউথ ওয়েলসের অন্যতম সদস্য ছিলেন। নয় খেলা থেকে ২৯ উইকেট নিয়ে এনএসডব্লিউ’র দ্বিতীয় সর্বাধিক উইকেট শিকারীতে পরিণত হন। এর কয়েক মাস পরই তাঁকে টেস্ট দলে ঠাঁই দেয়া হয়।
২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ঐ বছর রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। স্টুয়ার্ট ম্যাকগিলকে সহায়তাকল্পে তাঁকে দলে রাখা হয়। অ্যান্টিগুয়ায় দ্বিতীয় টেস্ট শেষে স্টুয়ার্ট ম্যাকগিল অবসর গ্রহণ করলে তিনি খেলার সুযোগ পান। ১২ জুন, ২০০৮ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইনিংসে একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১০ রান সংগ্রহ করলেও সাত ওভারে বেশ রান খরচ করে কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। দ্বিতীয় ইনিংসে তিন উইকেট লাভ করেছিলেন। খেলায় তিনি ০/৪৩ ও ৩/৮৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, সায়মন ক্যাটিচের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৮৭ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। এরপর, দল নির্বাচকমণ্ডলীর নজরের বাইরে চলে যান। ঐ বছরের শেষদিকে ভারত সফরে উপেক্ষিত হন। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
অক্টোবরে অ্যাডিলেড ওভালে এনএসডব্লিউ বনাম সাউথ অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার শেফিল্ড শীল্ডের খেলায় অস্বস্তিবোধ করলে খেলা থেকে মাঠের বাইরে চলে যেতে বাধ্য হন। অবশেষে, ২৮ বছর বয়সে নভেম্বর, ২০১১ সালে সকল স্তরের ক্রিকেটে খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করতে বাধ্য হন। হৃদযন্ত্রের গুরুতর সমস্যার কারণেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। ব্লুজের পক্ষে ব্যাটিং কোচ হিসেবে মনোনীত হন। বিবিএলে পার্থ স্কর্চার্সের অধিনায়কত্ব করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৪৩ ঊর্ধ্ব গড়ে উইকেট ও ২২ ঊর্ধ্ব গড়ে রান পেয়েছিলেন। কোন শতরানের সন্ধান পাননি।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তারিখে স্কর্চার্সের কোচিং কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন।
