|

ফ্রেড রামসে

৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৫ তারিখে লন্ডনের স্টেপনি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ার, সমারসেট ও ওরচেস্টারশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬০ থেকে ১৯৭০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ১৯৬০ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত ওরচেস্টারশায়ারের খেলেন। এরপর, ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৮ সময়কালে সমারসেটের সদস্য হন। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত ডার্বিশায়ারের পক্ষে সদস্য হলেও পাঁচ মৌসুমে একটিমাত্র প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে, লিস্ট-এ খেলায় নিয়মিতভাবে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৬৪ থেকে ১৯৬৫ সালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র পাঁচ টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইংল্যান্ডের দ্রুতগতিসম্পন্ন বামহাতি বোলার হিসেবে যুক্ত হয়েছিলেন। অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলোয় তেমন খারাপ খেলেননি। ২৭.১১ গড়ে ১৭ উইকেট দখল করেছেন। ১৯৬৪ সালে নিজ দেশে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৩ জুলাই, ১৯৬৪ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশগ্রহণ করেন। টম কার্টরাইটের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ২/৯৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৩* রান সংগ্রহ করেছিলেন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক বব সিম্পসনের ৩১১ রানের বদৌলতে সফরকারীরা ৬৫৬/৮ তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৬৫ সালে নিজ দেশে জন রিডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৭ জুন, ১৯৬৫ তারিখে লর্ডসে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে জিটি ডাউলিংকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/৯৯। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সেরা বোলিং বিশ্লেষণে পরিণত হয়। খেলায় তিনি ৪/২৫ ও ১/৪২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৬৫ সালে নিজ দেশে পিটার ফন ডার মারউই’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২২ জুলাই, ১৯৬৫ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩/৮৪ ও ৩/৪৯ লাভ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৩ ও ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

তবে, ঐ সময়ে প্রতিভাবান ফাস্ট বোলারদের দাপটে তাঁকে পিছু হটতে হয়। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ভিন্ন তিনটি কাউন্টি দলের পক্ষে খেললেও টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবন দীর্ঘস্থায়ী করতে পারেননি। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২০ গড়ে ৫৮০ উইকেট দখল করেছেন। লিস্ট-এ ক্রিকেটে আরও ভালো খেলেছেন। ১৭ গড়ে ১৩০ উইকেট দখলসহ ওভারপ্রতি ২.৭৩ রান খরচ করেছিলেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। লর্ডস টাভার্নার্সে যুক্ত রয়েছেন। পিসিএ গঠনে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালনসহ পথিকৃতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন ও নিজেকে স্মরণীয় করে রাখেন। সম্মানসূচক আজীবন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সহঃসভাপতি হিসেবে মনোনীত হন ও জন আর্লট এর প্রথম সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এর স্বীকৃতিস্বরূপ পিসিএ থেকে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেন। ‘সেন্স অব হিউমার, সেন্স অব জাস্টিস’ শিরোনামী গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট