| |

জন মর্টিমোর

১৪ মে, ১৯৩৩ তারিখে ব্রিস্টলের সাউথমিড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫০ থেকে ১৯৭৫ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ইংল্যান্ডের অন্যতম ধারাবাহিকতা রক্ষকারী অফ-স্পিনারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। শীর্ণকায় ও দীর্ঘ দেহ নিয়ে কৌণিক ও ধ্রুপদী ভঙ্গীমায় বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। বলে ফ্লাইট আনয়ণ ও শৈল্পিক পেস পরিবর্তনে ব্যাটসম্যানদেরকে বিভ্রান্তিতে ফেলতেন। সিকি শতাব্দী গ্লুচেস্টারশায়ারের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে নিজেকে পরিণত করেছিলেন। ১৯৫৪ সালে কাউন্টি ক্যাপ লাভ করেন। এছাড়াও, ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৭ সময়কালে দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন।

১৯৫৯ থেকে ১৯৬৪ সময়কালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে পিটার মে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের অন্যতম সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৯ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৪৪* ও ১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৪১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে পিটার মে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৯ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/৪০ ও ১/২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ টেস্টে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৯৯ রানে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে এম. জে. কে. স্মিথের অধিনায়কত্বে ভারত সফরের জন্যে মনোনীত হন। কানপুরে সিরিজের পঞ্চম টেস্টে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে প্রভূত্ব দেখান। প্রথম ইনিংসে ৪৮ ওভার বোলিং করে ১/৩৯ লাভ করেন।

১৯৬৪ সালে নিজ দেশে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। অ্যাশেজ সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ পান। ২৩ জুলাই, ১৯৬৪ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে ৪৯ ওভার বোলিং করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। খেলায় তিনি ০/১২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক বব সিম্পসনের ৩১১ রানের বদৌলতে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া দল ৬৫৬/৮ তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। ফ্রেড টিটমাস, রে ইলিংওয়ার্থ ও ডেভিড অ্যালেনের ন্যায় তারকা অল-রাউন্ডারদের উপস্থিতিতে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন স্তিমিত হয়ে পড়ে।

গ্লুচেস্টারশায়ারের পক্ষে ৫৯৪টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ২২.৬৯ গড়ে ১৬৯৬ উইকেট দখল করেছিলেন। তন্মধ্যে, ৭২বার পাঁচ-উইকেট ও আটবার খেলায় দশ উইকেট লাভ করেছিলেন। এছাড়াও, ক্লাবটির পক্ষে ১৪৯১৭ রান সংগ্রহ করেছেন। তন্মধ্যে, ১৯৬৩ সালে ট্রেন্ট ব্রিজে নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট ব্যয় করে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৪৯ রান তুলেছিলেন। ১৯৫৯, ১৯৬৩ ও ১৯৬৪ সালে এক মৌসুমে ১০০০ রান ও ১০০ উইকেট লাভের ন্যায় ‘ডাবল’ লাভ করেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। গ্লুচেস্টারশায়ারের সহঃসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ইলিন নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ তারিখে ৮০ বছর ২৭৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট