১১ মে, ১৯৪৪ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের অবার্ন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হবার পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতে পারতেন। ১৯৭০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

লু ও আইরিন দম্পতির সন্তান। সিডনি গ্রেড ক্রিকেটে পেনরিথে পক্ষে খেলেছেন। পারামাত্তা হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেন। প্রথম একাদশের নেতৃত্ব দেন। বিদ্যালয়ের সাময়িকী ফোনিক্সে ১৯৬০ সালের সংখ্যায় তাঁর উচ্ছসিত প্রশংসা করা হয়। সিডনি সানে কপি-বয় হিসেবে কাজ নেন। সাংবাদিকতায় ক্যাডেটশিপ লাভ করেন। ১৯৮৮ সালে সংবাদপত্রটি বন্ধ হয়ে যাবার পূর্ব পর্যন্ত যুক্ত ছিলেন। এ সময়ে তিনি প্রধান সম্পাদকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

কিংবদন্তীতুল্য সহোদর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা রিচি বেনো’র তুলনায় নিজেকে সর্বদাই পিছিয়ে ছিলেন। সর্বদাই রিচি বেনো’র ভ্রাতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করলেও পেশীবহুল মজবুত বাহুর কারণে বেশ মারকুটে ব্যাটিং করতে পারতেন। ১৯৬৬-৬৭ মৌসুম থেকে ১৯৭২-৭৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২২ বছর বয়সে এমসিজিতে শেফিল্ড শীল্ডের খেলায় ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন। ২৬ ও ৪৭ রান তুলেছিলেন। দুই মৌসুম পর দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। কৌশলগতভাবে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। ঐ মৌসুমে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে একই মাঠে ১৩৪ রানের ইনিংস খেলেন। তবে, এনএসডব্লিউ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের আজীবন সদস্য হিসেবে রিচি বেনো’র মনোনয়নের ফলে ১৯৭০ সালে এ দায়িত্ব থেকে তাঁকে সরিয়ে আনা হয়।

অধিনায়কত্ব থেকে চলে আসার পর অতিথি দল ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে ১৩০ ও ৩৯ রান তুলেন। দুই খেলার পর ৬৬ ও অপরাজিত ১০২ রান তুলেন। এ পর্যায়ে কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে এনএসডব্লিউ ২৩৮ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রার দিকে ধাবিত হয়েছিল।

১৯৭২ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৭২-৭৩ মৌসুমে ইন্তিখাব আলমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২২ ডিসেম্বর, ১৯৭২ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে রিচি বেনো’র অভিষেকের ২০ বছর পর তিনি প্রথম টেস্ট খেলেন। ২৪ রান তুলেছিলেন। ইনিংস ও ১১৪ রানে জয় পেয়ে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবন স্বল্পকালীন হলেও একটি শতরানের সন্ধান পেয়েছেন। একই মৌসুমে সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ১৪২ রান তুলেন। ২৯ ডিসেম্বর, ১৯৭২ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত ঐ ইনিংসে তিনি ২০৭ বল মোকাবেলা করে ১৮টি চার ও দুইটি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। তবে, প্রথম ইনিংসে ১৩ রান তুলেছিলেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ৯২ রানে জয় পায়।

১৯৭২-৭৩ মৌসুমে ইয়ান চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২১ এপ্রিল, ১৯৭৩ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৮ ও ৩৬ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলোয় অংশ নিয়ে চার শতক সহযোগে ৩৬.৫৫ গড়ে ২৮৮৮ রান তুলেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ধাবিত হন। দলের সঙ্কটকালীন এগিয়ে আসেন। ১৯৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়া দলের পুণরুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট