|

জনি মার্টিন

২৮ জুলাই, ১৯৩১ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের উইংহাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স কিংবা বামহাতে রিস্ট-স্পিন বোলিংয়ে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

বোলিংয়ে দক্ষতার পাশাপাশি ব্যক্তিত্ববোধও যথেচ্ছ পরিমাণে গড়ে তুলেছিলেন। অন্যতম বর্ণাঢ্যময় ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবনের সাথে নিজেকে যুক্ত করেন। শুরুতে বামহাতে অদ্ভূত ভঙ্গীমায় অপ্রচলিত পন্থায় বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ফিঙ্গার স্পিনের পাশাপাশি রিস্ট-স্পিন বোলিং করতেন। বল হাতে সর্বদাই সাফল্য না পেলেও গুগলি প্রয়োগে সেরা ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হতেন। এরফলে, দলের অমূল্য খেলোয়াড়ে পরিণত হন। বিশেষতঃ বেশ নিচুতে বল ফেলতেন। এছাড়াও, নিচেরসারির কার্যকর ব্যাটসম্যান ছিলেন। পরিস্থিতি সামলে গুরুত্বপূর্ণ রান সংগ্রহে এগিয়ে আসতেন।

২০ বছর বয়সে পিটারশামের চলে আসেন। ২২ বছর বয়সে ১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে পিটারশাম-মারিকভিল ক্লাবে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা পেয়ে রেলযোগে সিডনিতে চলে আসেন। প্রথম মৌসুমেই বল ও ব্যাট হাতে অনবদ্য ভূমিকা রাখেন। দুই শতক সহযোগে ৪৩৭ রান সংগ্রহের পাশাপাশি ২৪ উইকেট পান। নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের বিপক্ষে ৭/৪১ লাভ করেন। ১৯৫৬-৫৭ মৌসুমে অল-রাউন্ড যোগ্যতার পরিচয় পেয়ে রাজ্য দল নির্বাচকমণ্ডলীর নজর কাড়েন।

১৯৫৬-৫৭ মৌসুম থেকে ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস ও সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ব্রিসবেনের গাব্বায় কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো খেলেন। পরবর্তী বারো মৌসুম রাজ্য দলটির পক্ষে খেলে ২৫৮২ রান, ২৯৩ উইকেট ও ৮৩ ক্যাচ লাভ করেন। ইনিংসে বারোবার পাঁচ বা ততোধিক উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। পরবর্তী ১৯৫৭-৫৮ মৌসুমে পিটারশাম-মারিকভিলের পক্ষে প্রথম স্তরের ক্রিকেটে নতুন রেকর্ড গড়েন। মাত্র ১৪.৪০ গড়ে ৪৭ উইকেট পান। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে ৮/৫৯ পান। তবে, দুই মৌসুম বাদে এ সাফল্যকে ছাঁপিয়ে যান। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বলমেইনের বিপক্ষে ২৫ ওভারে ৮/৪৯ পেয়েছিলেন।

১৯৬০ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আটটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৬০-৬১ মৌসুমে নিজ দেশে ফ্রাঙ্ক ওরেলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৬০ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ফ্রাঙ্ক মিশনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। একবার ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ পেয়ে ৫৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৩২ ও ৩/৫৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৭ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথের জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ২০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে ট্রেভর গডার্ডের বলে বিদেয় নেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, ০/৬৪ ও ০/২৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৭ উইকেটে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টগুলো থেকে ১৭ উইকেট দখল করেছিলেন। ব্যক্তিগত সেরা ৩/৫৬ লাভ করেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৪৪৫ উইকেট লাভ করেন, ৩৯৭০ রান তুলেন ও ১১৪ ক্যাচ তালুবন্দী করেন।

১৫ জুলাই, ১৯৯২ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের বারেল ক্রিক এলাকায় ৬০ বছর ৩৫৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট