| |

কপিল বিজেগুণবর্ধনে

২৩ নভেম্বর, ১৯৬৪ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১০৯৬-৮৭ মৌসুম থেকে ১৯৯২-৯৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে কলম্বো ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৮৮ থেকে ১৯৯২ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট ও ২৬টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। দল নির্বাচকমণ্ডলী মূলতঃ তাঁকে একদিনের আন্তর্জাতিকে বোলার হিসেবে রেখেছিলেন। এ স্তরের ক্রিকেটেই তাঁর প্রথম অংশগ্রহণ ঘটে। ২৭ অক্টোবর, ১৯৮৮ তারিখে ঢাকায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। আট ওভারের মিতব্যয়ী বোলিংয়ে ২/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান ও দলের বিজয়ে ভূমিকা রাখেন।

১৯৯১ সালে অরবিন্দ ডি সিলভা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২২ আগস্ট, ১৯৯১ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। মাঝে-মধ্যে বোলিং করার সুযোগ পেয়েছিলেন। ফলশ্রুতিতে, উইকেট শূন্য অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করতে হয়। ০/৩৬ ও ০/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৬* ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, রুমেশ রত্নায়েকে’র অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন স্বত্ত্বেও অ্যালেক স্টুয়ার্টের ব্যাটিং নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১৩৭ রানে জয় পায়।

১৯৯১-৯২ মৌসুমে অরবিন্দ ডি সিলভা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। ২ জানুয়ারি, ১৯৯২ তারিখে ফয়সালাবাদে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। এ পর্যায়ে নিজস্ব দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিবাহিত করেন। খেলায় তিনি ৯৮ রান খরচায় সাত উইকেট পান। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় ইনিংসে ৪/৫১ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে দলকে প্রায় স্মরণীয় বিজয়ের দিকে নিয়ে গিয়েছিলেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ৩/৪৭ পেয়েছিলেন। তবে, ওয়াসিম আকরামের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩ উইকেটে জয় পেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ধারাবাহিকভাবে মিডিয়াম-পেস বোলিং করতেন। শ্রীলঙ্কা দলের সদস্য থাকাকালীন বেশ ভালোমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করতেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রিকেটে প্রকৃত মানসম্পন্ন পেস বোলিং করে সমীহের পাত্রে পরিণত হতেন মূলতঃ নিখুঁত নিশানা বরাবর বল ফেলা ও বলকে বাঁক খাওয়ানোর সক্ষমতার কারণে। তাঁর যোগ্যতা সম্পর্কে উপেক্ষাকারী ব্যাটসম্যানদেরকে নাস্তানুবাদ করে ছাড়তেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ৮ এপ্রিল, ২০১৫ তারিখে প্রধান দল নির্বাচক হিসেবে সনথ জয়সুরিয়া’র স্থলাভিষিক্ত হন।

সম্পৃক্ত পোস্ট