|

আর্থার ফিল্ডার

১৯ জুলাই, ১৮৭৭ তারিখে কেন্টের প্ল্যাক্সটল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯০০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘পিপ ফিল্ডার’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ ক্রিকেটে কেন্ট দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০০ থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ক্ষীপ্র গতিসম্পন্ন পেস বোলিং করতেন। অফ-স্ট্যাম্পের বাইরে বল ফেলতে পারঙ্গমতা দেখিয়েছেন। প্রাপ্ত অধিকাংশ উইকেটই সুইংয়ের মাধ্যমে লাভ করেছেন। প্রথমদিকের অন্যতম বোলার হিসেবে বর্ণাঢ্যময় খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন ও স্লিপ অঞ্চলে ফিল্ডারদেরকে দণ্ডায়মান রাখতেন।

১৯০৬ সালে লর্ডসে প্লেয়ার্সের সদস্যরূপে জেন্টলম্যানের বিপক্ষে এক ইনিংসের সবগুলো উইকেট লাভের কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। ঐ মৌসুমে তিনি ১৮৬ উইকেট দখল করেন ও কেন্ট দলের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের প্রথম শিরোপা বিজয়ে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। ১৯০৭ সালেও সাফল্যের পুণরাবৃত্তি ঘটান। মাত্র ১৬ গড়ে ১৭২ উইকেট কব্জা করেন। ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি তেমন সুবিধে করতে পারেননি। তাসত্ত্বেও, ব্যাট হাতে নিয়ে একবার স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিবাহিত করেছিলেন। ১৯০৯ সালে ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে দলের সংগ্রহ ৩২০/৯ থাকা অবস্থায় মাঠে নেমে ওলি’র সাথে ২৩৫ রান যুক্ত করেন। নিজে ১১২ রানে অপরাজিত ছিলেন।

১৯০৩-০৪ মৌসুম থেকে ১৯০৭-০৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। দুইবার অস্ট্রেলিয়া গমন করে অংশগ্রহণকৃত সবগুলো টেস্ট খেলেন। ১৯০৩-০৪ মৌসুমে দলের সাথে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ১ জানুয়ারি, ১৯০৪ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১৯০৭-০৮ মৌসুমে সিডনি টেস্টে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পান। ৬/৮২ ও ৩/৮৮ লাভ করেছিলেন। তবে, সফরকারীরা মাত্র দুই উইকেটের ব্যবধানে ঐ টেস্টে পরাজয়বরণ করেছিল।

১৯০৭-০৮ মৌসুমে ফ্রেডরিক ফেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৩ ডিসেম্বর, ১৯০৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৬/৮২ ও ৩/৮৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১* ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ২ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৮ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১ ও ২০ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৫৪ ও ৪/৯১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৩০৮ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়েছিল।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পূর্ব পর্যন্ত কেন্টের পক্ষে খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন ও বিশ্বযুদ্ধের ফলে অনেকের ন্যায় তাঁরও খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটে। ১৯১৯ সালে খেলা শুরু হলে ৪০ বছর বয়সে এসে আর খেলার জগতে প্রবেশ করেননি। সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে ২১ গড়ে ১২২১ উইকেট দখল করেন।

১৯০৭ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ৩০ আগস্ট, ১৯৪৯ তারিখে লন্ডনের ল্যাম্বেথ এলাকার সেন্ট টমাস হাসপাতালে ৭২ বছর ৪২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট