১৯ মে, ১৮৭৬ তারিখে ডার্বিশায়ারের স্টোনব্রুম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯০০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৯৯ থেকে ১৯১৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ডার্বিশায়ারের অন্যতম খ্যাতনামা উইকেট-রক্ষক হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। ১৮৯৯ সালে প্রথমবারের মতো কাউন্টির পক্ষে খেলতে নামেন। উইলিয়াম স্টোরারের সহকারী ছিলেন। এরপর, নিজের সেরা দিনগুলোয় দৃশ্যতঃ নিজেকে নিয়মিত উইকেট-রক্ষক হিসেবে গড়ে তুলেন। ১৯০২ সাল থেকে দারুণ ছন্দে অবস্থান করেন ও এক পর্যায়ে ১৯০৭ সালের শীতকালে অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্যে মনোনীত হন।

১৯০৮ সালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেন। ১৯০৭-০৮ মৌসুমে এ. ও. জোন্সের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। কেমব্রিজ ও সাসেক্সের চশমা পরিহিত খেলোয়াড় আর. এ. ইয়ংকে শ্রেয়তর ব্যাটিংয়ের কারণে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। চার ইনিংস থেকে ২৭ রান সংগ্রহের কারণে পঞ্চম টেস্ট পর্যন্ত তাঁকে খেলার সুযোগ দেয়া হয়। ১ জানুয়ারি, ১৯০৮ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। জ্যাক হবসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৬ ও ১৬ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। নাটকীয়ভাবে ১ উইকেটে জয় পেলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনতে সক্ষম হয়।

একই সফরের ৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৮ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৩* ও ১১ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। স্বাগতিকরা ৩০৮ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়েছিল।

অধিনায়ক এ. ও. জোন্সের সর্দিজ্বরে আক্রান্ত হন ও দলের শোচনীয় ফলাফলের পাশাপাশি সাধারণমানের সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ছয় ইনিংস থেকে তিনি ৪৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

টেস্টের তুলনায় কাউন্টি ক্রিকেটেই অধিক সফল ছিলেন। ডার্বিশায়ারের পক্ষে ছয় শতাধিক ডিসমিসালের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন। কিন্তু, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের দাবানল ছড়িয়ে পড়লে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি ঘটে। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তিনটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা পরিচালনা করেছিলেন।

৭ মে, ১৯৪৬ তারিখে ডার্বিশায়ারের চেস্টারফিল্ড এলাকায় ৭০ বছর পূর্তির ১০ দিন পূর্বে ৬৯ বছর ৩৫৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট