৩১ আগস্ট, ১৯৮৭ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হেনলি বীচে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০১০-এর দশকের শেষদিকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘লিও’ ডাকনামে ভূষিত চাদ সেয়ার্স ১.৮০ মিটার উচ্চতার অধিকারী। উডভিল ও গ্লেনেগ দলের পক্ষে অ্যাডিলেডের ক্লাব ক্রিকেটে অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। উডভিলের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে গ্রেড ক্রিকেটের মর্যাদাসম্পন্ন ব্র্যাডম্যান পদক লাভ করেন। এছাড়াও, পূর্বেকার উপর্যুপরী দুই মৌসুম রানার-আপ হয়েছিলেন। বোলিং উদ্বোধনে নামতেন। বলকে বেশ দেরীতে সুইং করাতেন। ২০১১ থেকে ২০২১ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, উডভিলের পক্ষে খেলেছেন।

১০ মার্চ, ২০১১ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সাউথ অস্ট্রেলিয়া বনাম তাসমানিয়ার মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। তাঁর পিতা ডিন ১৯৮০-এর দশকে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে খেলেছেন। ২০১২-১৩ মৌসুমে চমৎকার সময় কাটানোর পর অ্যাশেজ সিরিজে অন্তর্ভুক্তির দাবীদার ছিলেন। ১৮.৫২ গড়ে ৪৮ উইকেট নিয়ে শেফিল্ড শীল্ডে শীর্ষে ছিলেন। ঐ মৌসুমে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার মৌসুমের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে মনোনীত হন। এ পর্যায়ে এসেও তিনি কোন টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি। পরের মৌসুমে ৩৬ উইকেট লাভ করলে তাঁকে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলে রাখা হয়। ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের পক্ষে দারুণ খেলে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর নজরে চলে আসেন।

২০১৪-১৫ মৌসুমে পায়ের গোঁড়ালীতে আঘাতের কারণে সীমিত অংশগ্রহণের সুযোগ পান। পাঁচটি শীল্ডের খেলায় অংশ নেন। এরপর, আট খেলা থেকে ৩২ উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ড গমনার্থে তাঁকে অস্ট্রেলিয়া দলে রাখা হয়। এছাড়াও, সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের সদস্যরূপে ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে খেলেন। দুইটি প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে ছয় উইকেট পান। শীল্ডের শুরুতে তাসমানিয়ার বিপক্ষে ১১ উইকেট নিয়ে আবারও দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টিতে চলে আসেন। কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ টেস্ট দলে ঠাঁই পান।

২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ২০১৭-১৮ মৌসুমে টিম পেইনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ৩০ মার্চ, ২০১৮ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অস্ট্রেলিয়ার ৪২৫তম টেস্ট খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান। খেলায় তিনি ২/৭৮ ও ০/৬৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, তিনি উভয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। ভার্নন ফিল্যান্ডারের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে সফরকারীরা ৪৯২ রানে পরাজয়বরণ করলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

এছাড়াও, ২০১৭-১৮ মৌসুমের অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে তাঁকে অস্ট্রেলিয়া দলে রাখা হয়েছিল। ১ এপ্রিল, ২০২১ তারিখে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। এরপর, কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন।

সম্পৃক্ত পোস্ট