৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮০ তারিখে দক্ষিণ আফ্রিকার নর্থ-ওয়েস্টের উলমারানস্টাড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০১০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৪ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার ছোটখাটো গড়নের অধিকারী তিনি ও টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে খর্বাকায় ক্রিকেটারের মর্যাদা পান। স্ট্যাম্পের পিছনে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখতেন। ক্ষীপ্রময় ও কার্যকর উইকেট-রক্ষক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় নর্দার্নের ক্রিকেট খেলা শিখেন।

২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০১৫-১৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে সরব ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারি এবং দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নর্দার্নস ও টাইটান্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০০০-০১ মৌসুমে নর্দার্নসের পক্ষে প্রথমবারের মতো উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে নামেন। তবে, এ স্থানের জন্যে তাঁকে মার্ক বাউচারের কাছ থেকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হয়। তাঁর কোচ ডেভ নসওয়ার্দি ক্যান্টারবারিতে খেলার প্রস্তাবনা দেন। এক পর্যায়ে টেস্ট ক্রিকেটার হবার স্বপ্ন পূরণে ২০০৬ সালে নিউজিল্যান্ডে চলে আসেন।

২০০৬ সালে ক্যান্টারবারি উইজার্ডের পক্ষে খেলা শুরু করেন। এক মৌসুম পর দলের অধিনায়ক হিসেবে তাঁকে মনোনীত করা হয়। এ পর্যায়ে স্টেট চ্যাম্পিয়নশীপে উইজার্ডসের প্রথম শিরোপা লাভে দলের নেতৃত্ব দেন। ২০০৯-১০ মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে অধিনায়কত্ব থেকে তাঁকে চলে আসতে হয় ও পরবর্তী গ্রীষ্মের শুরুতে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসে চলে যান। এরপর থেকে তাঁর ব্যাটিংয়ের উত্তরণ ঘটতে থাকে ও দলের শীর্ষ পাঁচজনের অন্যতম হন। ক্রমাগত সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ নিউজিল্যান্ডের জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন। জানুয়ারি, ২০১২ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজ খেলার জন্যে তাঁকে নিউজিল্যান্ড দলে কেবলমাত্র উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

২০১২ সালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। অভিষেকের পর টেস্টগুলো থেকে ২১.৩১ গড়ে ৩৪১ রান সংগ্রহ করেছেন। ২০১১-১২ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৭ মার্চ, ২০১২ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। রব নিকোলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়কের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর বদান্যতায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ২৩ মার্চ, ২০১২ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। দ্বিতীয় ইনিংসে ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৩৬ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৭ ও ৩৯ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

২০১২-১৩ মৌসুমে রস টেলরের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ২৫ নভেম্বর, ২০১২ তারিখে কলম্বোয় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, চারটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, দলীয় অধিনায়কের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে সফরকারীরা ১৬৭ রানে জয় পেলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

চার মৌসুম ক্যান্টারবারি ও ছয় মৌসুম সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসে খেলেন। ২০১৪-১৫ মৌসুমে সর্বাধিক ৪০ ডিসমিসাল, এক খেলায় সর্বাধিক ১০ ডিসমিসাল ও এক খেলায় সর্বাধিক ১০ ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে রেকর্ড গড়েন।

১০ ডিসেম্বর, ২০১৫ তারিখে সকল স্তরের ক্রিকেট থেকে নিজের অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। নিজ জন্মভূমি দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে প্রিটোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত টাকসক্রিকেট একাডেমিতে পূর্ণাঙ্গকালীন দায়িত্ব পালনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পূর্বেকার গ্রীষ্মে স্ট্যাগসের ফোর্ড ট্রফি বিজয়ে ভূমিকা রাখেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট