৭ মে, ১৯৮০ তারিখে ওয়েলিংটনে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত পিতা-মাতার সন্তান। তবে, ওয়েলিংটনের পূর্বাঞ্চলীয় শহরতলীতে জন্মগ্রহণ করেন ও সেখানেই শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওয়েলিংটন ফায়ারবার্ডস ও ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ইস্টার্ন সাবার্বসের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমের স্টেট চ্যাম্পিয়নশীপে স্টেট ওয়েলিংটন ফায়ারবার্ডসের সদস্যরূপে স্টেট ওতাগো ভোল্টসের পক্ষে প্রথম খেলেন। ২০০৪-০৫ মৌসুমের একই প্রতিযোগিতায় একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৬/৩২ লাভ করেন। জাতীয় দলের কোচ জন ব্রেসওয়েলের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন।
২০০৫ থেকে ২০১৭ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ২৪ টেস্ট, ৪৩টি ওডিআই ও ১১টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০৫ সালে ওডিআই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকল্পে জিম্বাবুয়ে সফরে নিউজিল্যান্ড দলের সদস্যরূপে মনোনীত করা হয়। ৩১ আগস্ট, ২০০৫ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।
২০০৫-০৬ মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৭ এপ্রিল, ২০০৬ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। গ্রায়েম স্মিথ, বোয়েতা ডিপেনার ও এবি ডি ভিলিয়ার্সের উইকেট লাভ করে ৩/১১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৭* রান সংগ্রহ করেছিলেন। দলনায়কের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
২০০৭ সালের সিবি সিরিজে সেরা ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। এ পর্যায়ে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র সাথে স্মরণীয় জুটি গড়ে মিতব্যয়ী বোলিং করেন। দলের দ্বিতীয় স্পিনার হিসেবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন ও ড্যানিয়েল ভেট্টোরিকে আরও আক্রমণাত্মক বোলারের পরিণত করেন। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
২০০৮-০৯ মৌসুমে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে বাংলাদেশ গমন করেন। ১৭ অক্টোবর, ২০০৮ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৬৭ ও ২/৫৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দলীয় অধিনায়কের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৩ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই মৌসুমে নিজ দেশে ক্রিস গেইলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১১ ডিসেম্বর, ২০০৮ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দ্বাদশ খেলোয়াড়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। জেরোম টেলরের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
স্থির ভঙ্গীমায় বলকে শূন্যে ভাসানোয় দক্ষ হলেও দুসরায় সুবিধে করতে পারেননি। সর্বদাই ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র সাফল্যে ম্লান ছিলেন ও খুব কম সময়ই নিউজিল্যান্ড দলে দুইজন স্পিনারকে একত্রে খেলতে দেখা যেতো। টেস্ট খেলায় খুব কমই সুযোগ পেতেন। ২০০৯ সালে ওয়ারউইকশায়ারের পক্ষে ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে অংশ নিতে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। প্রথম খেলাতেই ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম প্রথম-শ্রেণীর শতক হাঁকান।
২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় নিউজিল্যান্ড দলে তাঁকে রাখা হয়নি। ঘরোয়া ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ারের পক্ষে খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন। ড্যানিয়েল ভেট্টোরি কিংবা নাথান ম্যাককালামের ন্যায় শীর্ষ স্পিনারের শূন্যতা পূরণে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিতে পারতেন। অধিকন্তু, বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার পর ৬ টেস্ট থেকে মাত্র ১২ উইকেট পেয়েছিলেন। জানুয়ারি, ২০১৩ সালে পোর্ট এলিজাবেথে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের পর দল থেকে বাদ পড়েন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পরবর্তী সিরিজে তাঁর পরিবর্তে ব্রুস মার্টিনকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়।
২০১১-১২ মৌসুমে প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়ের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেট খেলেন। এ মৌসুমে রস টেলরের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ১ নভেম্বর, ২০১১ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সিরিজের একমাত্র টেস্টে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১২ ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৯১ ও ০/৫১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র অসাধারণ অল-রাউন্ড সাফল্যে স্বাগতিকরা ৩৪ রানে পরাজয়বরণ করে।
২০১১ সালে পুণরায় কাউন্টি দল ওয়ারউইকশায়ারের পক্ষে খেলতে থাকেন। ২০১৪ সালে দলটির পক্ষে ১৮৫ উইকেট পান। ২০১৬ সালে সর্বাধিক উইকেট সংগ্রাহকের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করেন। ফলশ্রুতিতে, প্রফেশনাল ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক বর্ষসেরা সর্বাধিক মূল্যবান খেলোয়াড়ের পুরস্কার লাভ করেন।
ক্রমাগত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ নিউজিল্যান্ড দলে খেলার জন্যে তাঁকে পুণরায় আমন্ত্রণ জানানো হয়। তিন বছর পর টেস্ট ক্রিকেট খেলার সুযোগ পান। ভারতের বিপক্ষে খেলেন ও এরপর থেকেই নিউজিল্যান্ড দলে রয়েছেন। কেবলমাত্র উপযোগী পরিবেশে তাঁকে খেলানো হয়।
২০১৬-১৭ মৌসুমে নিজ দেশে ফাফ ডু প্লিসি’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৫ মার্চ, ২০১৭ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩০ ও ২/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। দলীয় অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
২০১৭ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ড দলের সদস্য ছিলেন। তবে, তাঁকে কোন খেলায় খেলানো হয়নি। এ প্রতিযোগিতা শেষ হবার অল্প কিছুদিন পরই ২২ জুন, ২০১৭ তারিখে রাজ্য দলীয় সঙ্গী লুক রঙ্কি’র সাথে একত্রে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। তবে, ওয়েলিংটন ও ওয়ারউইকশায়ারের পক্ষে খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন।
১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ তারিখে ইংল্যান্ডের পূর্ণাঙ্গকালীন স্পিন কোচ হিসেবে যুক্ত থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেন। অতঃপর, ১ মার্চ, ২০২১ তারিখে ইসিবি’র বাছাইকৃত কোচ হিসেবে মার্কাস ট্রেসকোথিক ও জন লুইসের সাথে তাঁকে রাখা হয়। জানুয়ারি, ২০২০ সালে ইংল্যান্ডের স্পিন পরামর্শক হিসেবে দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন।
২০১৫ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন।
