৭ মে, ১৯৭২ তারিখে গালেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
গলের মহিন্দ কলেজে অধ্যয়নকালীন ক্রিকেট খেলার দিকে ঝুঁকে পড়েন। মুত্তিয়া মুরালিধরনের প্রতিচিত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। কিন্তু, এ প্রতিশ্রুতিশীলতা পরবর্তীতে আর ধরে রাখতে পারেননি। ১৯৯১-৯২ মৌসুম থেকে ২০১১-১২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে তামিল ইউনিয়ন ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাব এবং নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাব ও ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, আইসিএল বিশ্ব একাদশ ও কলকাতা টাইগার্সের পক্ষে খেলেছেন।
১৯৯৪ থেকে ২০০৭ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বমোট ১৬ টেস্ট ও ১৪৭টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৪ এপ্রিল, ১৯৯৪ তারিখে ২১ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। খেলায় ৩৭ বলে ১৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।
টেস্ট দলে অংশগ্রহণের জন্যে তাঁকে আরও পাঁচ বছর অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়। অবশেষে, ১২ মার্চ, ১৯৯৯ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের বিপক্ষে এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের চূড়ান্ত খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। এ পর্যায়ে ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে অরবিন্দ ডি সিলভা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ গমন করেন। ঐ টেস্টে দূর্দান্ত খেলেন। প্রথম ইনিংসে ৪৭.৫ ওভারে ব্যক্তিগত সেরা ৬/১৭৯ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন। এছাড়াও, ১৫ ও ২৮ রান সংগ্রহ করেন। তবে, ইজাজ আহমেদের অসামান্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে পাকিস্তান দল ইনিংস ও ১৭৫ রানে জয়লাভ করে শিরোপা পায়।
২০০২ সালে খেলোয়াড়ী জীবনের স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। এ পর্যায়ে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের সদস্যরূপে কেনিয়ার বিপক্ষে খেলার জন্যে অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হন। কেনিয়ার বিপক্ষে অনানুষ্ঠানিক টেস্ট সিরিজে ব্যাটিং ও বোলিং উভয় বিভাগেই শীর্ষস্থান লাভ করেন। জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর নজর কাড়েন। এরফলে, ২০০৩ সালে পুণরায় জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।
টেস্ট ও ওডিআই – উভয় পর্যায়ের দলে বেশ কয়েক বছর সর্বদাই আসা-যাবার পালায় থাকতেন। কেবলমাত্র ২০০৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে একদিনের আন্তর্জাতিক দলে ক্ষাণিকটা নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩১৩ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় অগ্রসরকালে পাঁচ নম্বর অবস্থানে তাঁকে খেলানো হয়। ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় ৭১ বলে ছয় ছক্কা সহযোগে ৮৯ রানের দূর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন। পরবর্তী কয়েক বছর একদিনের আন্তর্জাতিক দলে নিয়মিতভাবে খেলেছিলেন। সীমিত-ওভারের খেলায় মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে বিধ্বংসীরূপে আত্মপ্রকাশ ঘটাতেন। পাশাপাশি বোলিংয়েও সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখেছিলেন। এরফলে, টেস্টগুলোয় এর প্রভাব পড়তে থাকে।
২০০৪ সালে মারভান আতাপাত্তু’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। এ সফরে মুত্তিয়া মুরালিধরনকে দলের বাইরে রাখা হলে টেস্ট দলে প্রধান স্পিন বোলারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বেশ রান খরচ করে ফেললেও কেয়ার্নসের কাজালিস স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে দশ উইকেট দখল করেছিলেন। ঐ সময়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে একমাত্র শ্রীলঙ্কান বোলার হিসেবে দশ উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছিলেন। ৯ জুলাই, ২০০৪ তারিখে কেয়ার্নসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৫/১০৯ ও ৫/১০১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১৯ ও ১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ম্যাথু হেইডেনের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীতে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা সিরিজে বিজয়ী হয়।
একই সালে এসএসসিতে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওডিআইয়ে পাঁচ-উইকেট লাভ করেছিলেন। এ পর্যায়ে বল নিয়ে নিখুঁততা আনয়ণে সুনিয়ন্ত্রিত পন্থায় বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ২০০৪ সালের এশিয়া কাপ প্রতিযোগিতা শেষে ওডিআই দলের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকারীতে পরিণত হন। কিন্তু, ২০০৫ সালের শেষদিকে তাঁর খেলার মান বেশ নিচেরদিকে নামতে শুরু করে ও দল থেকে বাদ পড়েন।
২০০৪-০৫ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৪ আগস্ট, ২০০৪ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টে ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ২১ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৫ ও ২৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৬৮ ও ১/৬০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মাহেলা জয়াবর্ধনে’র অসাধারণ দ্বি-শতক সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
২০০৪-০৫ মৌসুমে মারভান আতাপাত্তু’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১১ এপ্রিল, ২০০৫ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক কিউই দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৪১ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৯৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ল্যু ভিনসেন্টের অসাধারণ শতকের কল্যাণে ইনিংস ও ৩৮ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
জুলাই, ২০০৭ সালে অপ্রত্যাশিতভাবে ওডিআই দলে ফিরে আসেন। বাংলাদেশ গমন শেষে ১৫ অক্টোবর, ২০০৭ তারিখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। অনুমোদনবিহীন ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লীগে কলকাতা টাইগার্স ও আইসিএল বিশ্ব একাদশের সদস্য ছিলেন। নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন। কিন্তু, সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সালে অপর চারজনের সাথে পুণরায় ঘরোয়া পর্যায়ে খেলার সুযোগ লাভ করেন।
লেগ-স্পিন বোলিং করতেন ও বিশ্বের অন্যতম সেরা লেগ-স্পিনারের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় শিরোপা বিজয়ী শ্রীলঙ্কা দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। বিস্ময়কর ফিল্ডার হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেন। দূর্দান্ত রান-আউট কিংবা শূন্যে ভেসে আসা বলকে নিপুণতার সাথে মুঠোয় পুড়ে দলের ফলাফলকে ভিন্নতর দিকে ধাবিত করতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার ছিল।
