২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৭ তারিখে তিমারু এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
উজ্জ্বীবিত তরুণ নিউজিল্যান্ডীয় ফাস্ট বোলার হিসেবে অক্টোবর, ২০১০ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেন। এরপূর্বে, শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত ২০০৫ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ব্ল্যাক ক্যাপসদের কিশোর দলে খেলেছিলেন। চার বছর দলের উদীয়মান খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান। ১৪০ কিলোমিটারের মাঝামাঝি গতিবেগে বোলিং করে থাকেন।
৬ ফুট ৩ ইঞ্চি (১.৯১ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ২০০৫ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারি ও ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ৫ ডিসেম্বর, ২০০৫ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত ক্যান্টারবারি বনাম ওয়েলিংটনের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। আঘাতে নিপতিত হলেও ক্যান্টারবারির প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। ক্রাইস্টচার্চে ওয়েলিংটনের বিপক্ষে দলটি সাত উইকেটে পরাজিত হলেও চার বছরের মধ্যে তিনবার প্লাঙ্কেট শীল্ডের শিরোপা বিজয় করে। ২০১৬-১৭ মৌসুমে প্লাঙ্কেট শীল্ড ও ফোর্ড ট্রফির দ্বৈত শিরোপা বিজয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। ঘরোয়া আসরে দারুণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে ২০১০ সালে বাংলাদেশ গমনার্থে ওডিআই সিরিজে তাঁকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
২০১০ সাল থেকে ২০২১ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট, ১৯টি ওডিআই ও ১১টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। অক্টোবর, ২০১০ সালে ওডিআই অভিষেকে প্রথম পরিবর্তিত বোলার হিসেবে অংশ নেন। পেস ও নিখুঁততার অপূর্ব স্বাক্ষর রেখে তিন উইকেট লাভ করেন। প্রথম বারো খেলা থেকে ২০ ঊর্ধ্ব গড়ে ২০ উইকেট দখল করেন।
২০১০-১১ মৌসুমে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে ভারত গমন করেন। ৪ নভেম্বর, ২০১০ তারিখে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কেন উইলিয়ামসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, আঘাতের কারণে স্বাভাবিক খেলা প্রদর্শনে বাঁধার মুখোমুখি হন। প্রথম ইনিংসে পনেরো ওভার বোলিং করে উইকেট শূন্য অবস্থায় থাকেন। ০/৪৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দ্বিতীয় ইনিংসে আঘাতের কবলে পড়ে বোলিং করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ পেয়ে ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, হরভজন সিংয়ের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
পিঠের গুরুতর আঘাত থেকে আরোগ্য লাভের তিন বছর পর নিউজিল্যান্ডে জাতীয় দলে পুণরায় আহুত হন। এ পর্যায়ে জানুয়ারি, ২০১৪ সালে অকল্যান্ডে সফরকারী ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওডিআইয়ে অংশ নেন। ঐ সিরিজে দুই খেলায় অংশ নিয়ে ৩ উইকেট পেলেও বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় উপেক্ষিত হন।
ঘরোয়া আসরে ক্যান্টারবারির পক্ষে সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে ওডিআই দলের সদস্য করা হয়। বেশ ইতিবাচক খেলা উপহার দেন। এক পর্যায়ে উপমহাদেশে অনুষ্ঠিত ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা অংশ নেন। চেন্নাইয়ে কেনিয়ার বিপক্ষে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান। অধিকাংশ খেলোয়াড়ের বিশ্রামের কারণে বাংলাদেশের অংশগ্রহণে আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রি-দেশীয় সিরিজ খেলার উদ্দেশ্যে ওডিআই দলে ঠাঁই পান।
