১ জুন, ১৯৬৪ তারিখে গুজরাতের সবরকণ্ঠে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৮৬-৮৭ মৌসুম থেকে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বরোদার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বামহাতি সিমার ও ব্যতিক্রমধর্মী প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে নবসারিতে রঞ্জী ট্রফির খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। সৌরাষ্ট্রের বিপক্ষে ঐ খেলায় ২/৩১ পেয়েছিলেন। ঐ মৌসুমের শেষদিকে গুজরাতের বিপক্ষে ৩/৬২ ও ৪/২৭ পান। পরের মৌসুমে সৌরাষ্ট্রের বিপক্ষে খেলে ৩/৭০ ও ৫/৩৩ পান। এটিই তাঁর প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ ছিল।
পরের মৌসুমের ঘরোয়া ক্রিকেটে চার খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। এ পর্যায়ে ৫১.৬৭ গড়ে ৩ উইকেট পেয়েছিলেন। ১৯৯০-৯১ মৌসুমে কিনান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দিলীপ ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় অংশ নিয়ে নিজেকে স্মরণীয় করে রেখেছেন। উত্তরাঞ্চল বনাম পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যকার খেলায় রমন লাম্বাকে বিদেয় করতে দাগের বাইরে চলে যান ও বিমার ছুঁড়েন। এরপর রমন লাম্বা’র দিকে স্ট্যাম্প নিয়ে তেড়ে আসলে আত্মরক্ষার্থে ব্যাট দিয়ে আটকান। উভয়কেই খেলায় অংশগ্রহণের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়। তন্মধ্যে, রমন লাম্বাকে ১০ মাস ও তাঁকে ১৩ মাস মাঠের বাইরে অবস্থান করতে হয়েছিল।
নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন ব্রাডফোর্ড লীগে খেলেন। সেখানে আঘাতের কবলে পড়েন। খেলায় ফিরে বোম্বের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৬/৫৯ পান। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম পর্যন্ত খেলা চলমান রাখেন।
প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩৪.৮০ গড়ে ১১৩ উইকেট দখল করেছিলেন। ১১ বছরের অধিক খেলোয়াড়ী জীবনে ৪২টি খেলায় অংশ নিতে পেরেছিলেন। পূর্ববর্তী মৌসুমে ৪ খেলা থেকে মাত্র ৩ উইকেট পেলেও তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্বটি অস্বাভাবিকভাবে এসেছে। সম্ভবতঃ দেশে বামহাতি সিমারের আকাল পড়ায় তিনি এ সুযোগ পেয়েছিলেন। ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখার কথা চিন্তায় আনতেন না। কখনো ৪০ রানের কোটা স্পর্শ করেননি ও ব্যাটিং গড় দশের নীচে ছিল।
১৯৮৮ সালে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট ও সমসংখ্যক ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। উভয় ধরনের খেলাই নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে নিজ দেশে জন রাইটের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৪ নভেম্বর, ১৯৮৮ তারিখে বোম্বের ওয়াংখেড়েতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অদ্যাবধি একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে অংশগ্রহণকৃত একমাত্র টেস্টের উভয় ইনিংসে জোড়া শূন্য রান করেছেন এবং দুইবার বোলিংয়ে নেমেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। তবে, ঐ টেস্টে তিনি একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলায় সফরকারীরা ১৩৬ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতায় আসে।
এছাড়াও, ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৮৮ তারিখে বরোদায় অনুষ্ঠিত একমাত্র ওডিআইয়েও প্রায় একই ধরনের ভূমিকা রাখেন। ব্যাট হাতে নেয়ার সুযোগ পাননি এবং কোন উইকেট লাভ কিংবা ক্যাচ মুঠোয় পুড়তে পারেননি। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। তাঁর সন্তান জাফির ইংল্যান্ডে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছে ও দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের পক্ষে যুক্ত থাকলেও আইপিএলের কোন খেলায় অংশ নিতে পারেনি।
