|

ইফতিখার আঞ্জুম

১ ডিসেম্বর, ১৯৮০ তারিখে পাঞ্জাবের খানেওয়াল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

পেস বোলারদের দীর্ঘ তালিকায় দৃশ্যতঃ পাকিস্তানের অন্যতম খেলোয়াড় ছিলেন। আকিব জাভেদ, ওয়াসিম আকরাম কিংবা ওয়াকার ইউনুসের চেয়েও অনেকাংশে এগিয়েছিলেন তিনি। তাঁর ইন-সুইঙ্গারগুলোকেও অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষকই আকিব জাভেদের চেয়ে অধিকতর কার্যকর হিসেবে বিবেচনায় এনেছিলেন। পাকিস্তানী বোলারদের অন্যতম অস্ত্র রিভার্স সুইংয়েও তাঁর সবিশেষ দক্ষতা ছিল। বল ক্ষয়প্রাপ্ত হলেও চমৎকারভাবে সুনিয়ন্ত্রিত পন্থায় ইয়র্কার ছুঁড়তেন।

১৯৯৯-২০০০ মৌসুম থেকে ২০১৪-১৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে পাকিস্তান এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও ইসলামাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁর দিকে আকৃষ্ট হয়। এর তিন বছর পূর্ব থেকে পাকিস্তানের নির্জীব পিচে দুই শতাধিক উইকেট পেয়েছেন। জারাই তারাকিয়াতি ব্যাংক লিমিটেড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। প্যাট্রন্স ট্রফিতে ওয়াপদার বিপক্ষে চূড়ান্ত খেলায় দলের বিজয়ে নেতৃত্ব দেন। প্রথম ইনিংসে সাতটি ও সব মিলিয়ে খেলায় দশ উইকেট পান।

২০০৪ থেকে ২০১০ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট, ৬২টি ওডিআই ও দুইটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০৪ সালে ভারতের বিপক্ষে একদিনের দলে তাঁকে নেয়া হয়। সাত মাস পর পাকটেল কাপে অভিষেক ঘটে। ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০০৪ তারিখে মুলতানে অনুষ্ঠিত সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। এরপর থেকেই তাঁকে বিকল্প বোলার হিসেবে দলে রাখা হয়। তবে, সম্মুখসারির পেসারদের ক্রমাগত আঘাতের কারণে তাকে সর্বদাই নজরে রাখা হতো।

২০০৫-০৬ মৌসুমে ইনজামাম-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ৩ এপ্রিল, ২০০৬ তারিখে ক্যান্ডিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় বেশ রান খরচ করে ফেলেন ও উইকেট না পেলেও বিজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। ০/৫৪ ও ০/৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মোহাম্মদ আসিফের দূরন্ত বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিক দল ৮ উইকেটে জয় পায় ও ১-০ ব্যবধানে পরাজয়বরণ করে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ঐ মৌসুমের গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দলের প্রধান তিনজন ফাস্ট বোলারের অনুপস্থিতিতে তাঁকে টেস্ট দলে নেয়া হয়। তবে, দূর্ভাগ্যজনকভাবে পিতার মৃত্যুর কারণে তাঁকে দেশে ফিরে আসতে হয় ও আর টেস্টে সিরিজে খেলতে পারেননি। কিন্তু, পাকিস্তানের ফাস্ট বোলারদের নিয়মিতভাবে আঘাতের আধিক্য থাকায় পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় স্থায়ী অংশ ছিলেন। আইসিসি বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় দলের সদস্য থাকেন ও এরপর নিজ দেশে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেন। ৭ আগস্ট, ২০০৯ তারিখে কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। এপ্রিল, ২০১০ সালে সারে দলের পক্ষে কাউন্টি ক্রিকেট খেলার জন্যে ইংল্যান্ডে আসেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট