৭ নভেম্বর, ১৯৭৯ তারিখে খুলনায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে বামহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘মঞ্জু’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। একনিষ্ঠ বামহাতি সিম বালার হিসেবে ক্রমাগত বাউন্সার সহযোগে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। পাশাপাশি অফ-স্ট্যাম্প বরাবর বোলিং করার বিষয়েও মনোযোগ দিতেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ২০০৭-০৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে খুলনা বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ঢাকা ওয়ারিয়র্সের পক্ষে খেলেছেন।
১৯৯৯ থেকে ২০০৪ সময়কালে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বমোট ১৭ টেস্ট ও ৩৪টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৬ মার্চ, ১৯৯৯ তারিখে ঢাকায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথম খেলেন। ১৯৯৯ সালে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেটে প্রতিযোগিতায় ইংরেজ পরিবেশে দারুণ বোলিং করেছিলেন। তন্মধ্যে, নিম্নমূখী রানের খেলায় হাসিবুল হোসেন ও খালেদ মাহমুদের সাথে তিনি দুই উইকেট নিয়ে দলের বিজয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়াও, ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
২০০০-০১ মৌসুমে নাইমুর রহমানের অধিনায়কত্বে থেকে বাংলাদেশ দলের সাথে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ১৯ এপ্রিল, ২০০১ তারিখে বুলাওয়েতে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে জাভেদ ওমর, মোহাম্মদ শরীফ ও মুশফিকুর রহমানের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৬/৮১ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করিয়েছিলেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ১ ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ টেস্টে সফরকারীরা ইনিংস ও ৩২ রানের ব্যবধানে পরাভূত হয়।
২০০২-০৩ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে খালেদ মাসুদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৮ অক্টোবর, ২০০২ তারিখে ইস্ট লন্ডনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪ ও ৮ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে মাখায়া এনটিনি’র শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১০৪ বোলিং বিশ্লেষণসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। গ্রায়েম স্মিথের অনবদ্য দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ১০৭ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০০৪ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলেন। ০/৬৯ ও ১/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৫ ও ১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এ টেস্টে বাংলাদেশ দল ১৮৩ রানে পরাজিত হয় ও দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে চার বছর উপেক্ষিত থাকার পর ২০০৮ সালে অনুমোদনবিহীন আইসিএলে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। ২০০৯ সালে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেন। ঢাকা ওয়ারিয়র্সের সদস্য হন। এরফলে, বিসিবি কর্তৃক দশ বছরের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন। পরের বছর অবশ্য ঐ লীগ থেকে চলে আসেন।
চীনে এসিসি কর্তৃক কোচ হিসেবে নিযুক্তি লাভ করেন। অক্টোবর, ২০২০ সালে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলের প্রধান দল নির্বাচক হিসেবে মনোনীত হন।
