| | |

ফ্রেড রুট

১৬ এপ্রিল, ১৮৯০ তারিখে ডার্বিশায়ারের সমারকোটস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, আম্পায়ার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ইংরেজ ক্রিকেটে শৌখিন-পেশাদার পর্যায় রাখার বিষয়ের বিপক্ষে শুরুরদিকের অন্যতম সরব ভূমিকা রেখেছিলেন। ‘বডিলাইন সিরিজের’ এক দশক পূর্বেই লেগ-তত্ত্ব বোলিংয়ে আগুয়ান থেকে সফলতা লাভ করেছেন। শুধু তা-ই নয়, ডেঞ্জিল ব্যাচেলর ও রিচার্ড থমাস – উভয়েই তাঁকে রিভার্স-সুইংয়ের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলিং না করলেও ইন-সুইঙ্গার ও অফ-কাটার প্রয়োগ করতেন। বেশ নিখুঁততার সাথে বোলিং করতেন। এরফলে, সর্বদাই শর্ট-লেগে বল বাঁকাতেন অগ্রসর হতেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ার ও ওরচেস্টারশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯১০ থেকে ১৯৩২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ২৩ বছর ক্রিকেট জগতে যুক্ত থাকলেও খুব কমই প্রাপ্তির মুখ দেখেছিলেন। লোয়ারহাউজ ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে ১৯৩৮ থেকে ১৯৩৯ সময়কালে খেলেছিলেন। অন্যতম খেলোয়াড় হিসেবে ক্রিকেটকে শ্রেষ্ঠ ও সমৃদ্ধতর করে তুলতে বিরাট ভূমিকা রেখেছিলেন।

১৯২৬ সালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেছেন। ১৯২৬ সালে নিজ দেশে ওয়ারেন বার্ডসলি’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১২ জুন, ১৯২৬ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। বৃষ্টিবিঘ্নিত ঐ টেস্টে জ্যাক হবসহার্বার্ট সাটক্লিফ ব্যতিত দলের সকলের ন্যায় তিনিও ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ২৪ জুলাই, ১৯২৬ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে মাঠে নামার সুযোগ না পেলেও বল হাতে নিয়ে ৪/৮৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। টেস্টগুলো থেকে ২৪.২৫ গড়ে মাত্র ৮ উইকেট দখল করেছিলেন। সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২১ গড়ে ১৫১২ উইকেট ও ১৫ গড়ে ৭৯১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জগৎকে বিদেয় জানানোর পর ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে টডমর্ডেনে যোগ দেন। ৪৮৯ উইকেট দখল করে ক্লাবের রেকর্ড গড়েন। ১৯৩৫ সালে ১১৭ উইকেট দখল করেন। সংখ্যার দিক দিয়ে ১৯২০ সালে প্যাট মর্ফি’র ১৩১ উইকেট লাভের পর তিনি দ্বিতীয় সর্বাধিক উইকেট পেয়েছেন।

১৯৩৭ সালে ‘এ ক্রিকেট প্রো’জ লট’ শিরোনামীয় গ্রন্থ প্রকাশ করেন। গ্রন্থটি বেশ পাঠক সমাদৃত হয়েছিল। এতে পেশাদার ক্রিকেটারদের দৃষ্টিভঙ্গী সযত্নে লিপিবদ্ধ করেছেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিংয়ের দিকে ধাবিত হন। দুইটি প্রথম-শ্রেণীর খেলা পরিচালনা করেছিলেন। লিচেস্টারশায়ারের কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও, ‘সানডে পিক্টোরিয়ালের’ সংবাদদাতা ছিলেন।

২০ জানুয়ারি, ১৯৫৪ তারিখে স্টাফোর্ডশায়ারের উল্ভারহাম্পটন এলাকার রয়্যাল হাসপাতালে ৬৩ বছর ২৭৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট