২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৭ তারিখে ওতাগোর ডুনেডিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
দলে মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে কিছুটা দেরীতে সফলতার সন্ধান পান। নিজস্ব তৃতীয় মৌসুমে প্রথম শতক হাঁকান। সীমিত পর্যায়ে স্বীয় সক্ষমতার কথা জানান দিয়েছিলেন। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুম থেকে ২০১০-১১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টস ও ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, হাট ডিস্ট্রিক্টের পক্ষে খেলেছেন। ২০০৭-০৮ মৌসুমের স্টেট চ্যাম্পিয়নশীপে স্টেট সেন্ট্রাল স্ট্যাগসের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৬৫ রানের ইনিংস খেলেন। ২০০৮-০৯ মৌসুমে স্টেট ওয়েলিংটন ফায়ারবার্ডসের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। ঐ দলের পক্ষে ছয় হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ব্রুস এডগার ও রবার্ট ভ্যান্সের পর ওয়েলিংটনের তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে এ কৃতিত্বের অধিকারী হন। এছাড়াও, শেষ রাউন্ডে নাইটসের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৯৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ঐ মৌসুম শেষে ওয়েলিংটনের পক্ষে রেকর্ডসংখ্যক ১৮টি প্রথম-শ্রেণীর শতক হাঁকান।
পূর্বেকার ২০০৭-০৮ মৌসুমে ফায়ারবার্ডসের পক্ষে দারুণ খেলে দলকে পরিচালনা করার সুযোগ পান। স্টেট চ্যাম্পিয়নশীপে দুই শতক সহযোগে ৭৩.১০ গড়ে ৭৩১ রান পান। তন্মধ্যে, স্টেট সেন্ট্রাল স্ট্যাগসের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ২৬৫ রান তুলেন। দারুণ ছন্দে অবস্থানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট খেলায় অংশ নেয়ার জন্যে পুণরায় ব্ল্যাকক্যাপসে আমন্ত্রিত হন। এ মৌসুমটি ওয়েলিংটনের পক্ষে তাঁর একাদশ মৌসুম ছিল। ওয়েলিংটনের পক্ষে উপর্যুপরী ছয় মৌসুম নেতৃত্ব দেয়ার পর মাইকেল পার্লেন এ দায়িত্ব লাভে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। একমাত্র নিউজিল্যান্ডীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ঘরোয়া আসরে দুইবার সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন।
১৯৯৮ থেকে ২০০৮ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৮ টেস্ট ও সাতটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। টেস্টে দুইটি শতক হাঁকিয়েছেন। ২৪ অক্টোবর, ১৯৯৮ তারিখে ঢাকায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবন শুরু করেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে নিজ দেশে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৮ তারিখে ওয়েলিংটনের ব্যাসিন রিজার্ভে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ভারতীয় গতিদানব জবাগল শ্রীনাথের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। এছাড়াও, এ সময়ে ক্রমাগত পেটের মোচরজনিত সমস্যায় পড়েন। খেলায় তিনি ৪ ও ০ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, সায়মন ডৌলের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৯৯ সালে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড গমন করেন। ২২ জুলাই, ১৯৯৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫ রানে পৌঁছানোকালে পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। ১৫ ও ২৬* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ম্যাট হর্নের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টে ধৈর্য্যশীলতার বিমূর্ত প্রতীকে পরিণত হন। ইংরেজ বোলিং আক্রমণ প্রতিহত করে ৮৩ রান তুলেন। এ পর্যায়ে টেস্টে এটিই তাঁর প্রথম অর্ধ-শতক ছিল।
প্রথম শতরানের জন্যে তাঁকে আরও দুই বছর প্রতীক্ষার প্রহর গুণতে হয়। ২০০১ সালে অকল্যান্ডে সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। হ্যামিল্টনে চূড়ান্ত টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। মার্ক রিচার্ডসনকে সাথে নিয়ে ইনিংস উদ্বোধনে নামেন ও উভয়েই তিন অঙ্কের কোটা স্পর্শ করেছিলেন। ১৮১ রানের জুটি গড়েছিলেন।
২০০১ সালের শেষদিকে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দলটির বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড দল ভালো খেললেও তিনি এ সফরে মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। গ্লেন ম্যাকগ্রা ও জেসন গিলেস্পি’র বল মোকাবেলায় ব্যর্থতার পরিচয় দেন। এমনকি, কিছু এবড়োথেবড়ো শট খেলতেও তাঁকে দেখা যায়।
ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে কখনো নিজের পরিচিতি ঘটাতে পারেননি। কেবলমাত্র একবারই ওডিআইয়ে স্বীয় দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। ২০০১ সালে শারজায় ম্যাথু সিনক্লেয়ারের সাথে শতরানের জুটি গড়েছিলেন। বাদ-বাকী ওডিআইগুলোয় তেমন কিছুই সফলতা পাননি।
শোচনীয় ফলাফলের কারণে পরবর্তী ছয় বছর দলের বাইরে থাকেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ খেলার সুবাদে ২০০৭-০৮ মৌসুমের শেষদিকে পুণরায় আমন্ত্রণ বার্তা পান। সুযোগের পুরোপুরি সদ্ব্যবহারে তৎপর হন। ডুনেডিনে সফরকারী বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজস্ব দ্বিতীয় ও শেষ শতক হাঁকান।
একই মৌসুমে নিজ দেশে মাইকেল ভনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এ সিরিজটিই তাঁর সর্বশেষ ছিল। ওয়েলিংটনে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে জেমস অ্যান্ডারসনের শিকারে পরিণত হন। প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নেন।
একই সফরের ২২ মার্চ, ২০০৮ তারিখে নেপিয়ারে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শেষ ইনিংসে চমৎকার অর্ধ-শতক হাঁকান। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে ০ ও ৬৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, রায়ান সাইডবটমের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১২১ রানে পরাজিত হলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। কিন্তু, দল নির্বাচকমণ্ডলীর আস্থা অর্জন করতে পারেননি। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
পূর্ববর্তী দুই মৌসুম ক্রমাগত আঘাতের কবলে জর্জড়িত হলে ২৬ জুন, ২০১১ তারিখে সকল স্তরের ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। ব্যাপক অর্থেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ২৫ জুলাই, ২০১৪ তারিখে নিউজিল্যান্ডের মহিলা দলের সেপ্টেম্বর মাসের সফরকে ঘিরে জ্যাকব ওরামের সাথে তাঁকে সহকারী কোচ হিসেবে মনোনীত করা হয়।
