২০ আগস্ট, ১৯৮২ তারিখে হারারেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘বার্নস’ ডাকনামে পরিচিতি পান। সহজাত প্রকৃতির ডানহাতি ব্যাটসম্যান ছিলেন। মাঝে-মধ্যে অফ-স্পিনারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। তাসত্ত্বেও, মূলতঃ বামহাতি মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০০৪-০৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে সিএফএক্স একাডেমি ও ম্যাশোনাল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তন্মধ্যে, ২০০০-০১ মৌসুমে সিএফএক্স একাডেমি ও ২০০১-০২ মৌসুমে ম্যাশোনাল্যান্ডের পক্ষে খেলেছেন। এছাড়াও, হারারেভিত্তিক ওল্ড জর্জিয়ান্স স্পোর্টস ক্লাবে যুক্ত ছিলেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০০১ তারিখে হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সিএফএক্স একাডেমি বনাম ম্যাশোনাল্যান্ডের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
২০০৩ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে জিম্বাবুয়ে দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেলের ন্যায় ডানহাতি হলেও শৈশবকালে স্বীয় পিতা তাঁর কৌশল পরিবর্তনে এগিয়ে আসেন। এ কৌশল অবলম্বনের ফলে ব্যাটের শীর্ষে কার্যকর হাতকে রাখতেন। ক্রিকেটপ্রেমী পরিবারের সন্তান ছিলেন। পিতা বিদ্যালয় পর্যায়ে প্রথম একাদশে খেলেছেন। কাকা ব্রায়ান ১৯৭৪ ও ১৯৭৫ সালে জাতীয় পর্যায়ের বিদ্যালয় দলের সদস্য ছিলেন। পিতা বামহাতে ব্যাটিং ও ডানহাতে বোলিং করতেন। অন্যদিকে, কাকা এর সম্পূর্ণ বিপরীত ছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই পারিবারিক সাহচর্য্যে বাগানে তিন বা চার বছর বয়সে ক্রিকেটের সাথে হাতেখড়ি ঘটে।
ব্রাইডেন কান্ট্রি স্কুলে প্রাথমিক বিদ্যালয় জীবন অতিবাহিত করেন। তৃতীয় গ্রেড শেষে বিদ্যালয়ের কোল্টস দলের পক্ষে প্রথমবারের মতো খেলার জন্যে মনোনীত হন। পরবর্তী দুই বছর শন আরভিন ও গ্লেন গুসেনকে সাথে নিয়ে কোল্টস প্রথম একাদশের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। বিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী পঞ্চাশের কোটা স্পর্শ করলে বাধ্যতামূলকভাবে অবসর নিতে হতো। ফলে, কোন বড় ধরনের সংগ্রহ করতে সক্ষম হননি। ব্রাইডেন ও লিলফোর্ডিয়া বিদ্যালয়ের খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া সম্মিলিত দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকার সফরকারী একাদশের বিপক্ষে ৮৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। পঞ্চম কিংবা ষষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত লেগ-স্পিন বোলিং করতেন। তবে, দলে কোন অফ-স্পিনার না থাকায় বোলিংয়ের ধরন পরিবর্তন করে ফেলেন।
বেশ প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখায় নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ে পরপর তিন বছর জাতীয় ক্রিকেট সপ্তাহে মিডল্যান্ডসের প্রাইমারি বিদ্যালয়ের দলে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। এছাড়াও, দুই বছর জাতীয় পর্যায়ের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দলে খেলার জন্যে মনোনীত হন। বিদ্যালয়ে অবস্থানকালে টনি ব্রাউজের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করেন। তবে, বার্নি প্রতিদিন অনুশীলন কর্মে সহায়তায় তাঁর পিতার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
মাধ্যমিক জীবন সেন্ট জোন্স কলেজে অতিবাহিত করেন। তিন বছর বয়সভিত্তিক দলে তিন নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নামতেন। এরপর, প্রথম একাদশে খেলার সুযোগ পান ও উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তবে, চূড়ান্ত বর্ষে থাকাকালীন পছন্দের চার নম্বর অবস্থানে চলে যান। বিদ্যালয়ের ওল্ড বয়েজ দলের বিপক্ষে সেরা ইনিংস খেলেন। এ পর্যায়ে ১৩৬ রানের তৎকালীন ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান করেন। চার্চিলের বিপক্ষে আরও একটি শতক হাঁকান। পাশাপাশি বেশ কয়েকবার আশি ও নব্বুইয়ের কোটায় বিদেয় নেন এবং বল হাতে নিয়ে দুইবার পাঁচ-উইকেট লাভ করেছিলেন। এছাড়াও, শীতকালে চিগুটুর পক্ষে খেলেন। মাতাবেলেল্যান্ড ও কাদোমার বিপক্ষে শতরান করেন। আরও দুইবার আশি ও নব্বুইয়ের কোটায় বিদেয় নেন।
প্রতিনিধিত্ব পর্যায়ের খেলায় জিম্বাবুয়ের অনূর্ধ্ব-১৩ দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকার সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। অনূর্ধ্ব-১৬ দলের পক্ষে খেলতে ব্যর্থ হলেও অনূর্ধ্ব-১৯ দলে ফিরে আসেন। আগস্ট, ২০০০ সালে ডেভেলপম্যান্ট দলের সদস্যরূপে কেনিয়া গমন করেন। উভয় সফরে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান তুললেও কোন শতক করতে পারেননি। শেষ তিন মৌসুমে ওল্ড জর্জিয়ান্স স্পোর্টস ক্লাবের পক্ষে ক্লাব ক্রিকেটে অংশ নেন। তন্মধ্যে, মনিকাল্যান্ডের বিপক্ষে ষাট রান সংগ্রহ করেন।
২০০০ সালে বিদ্যালয় জীবন শেষ করার পর ক্রিকেটে খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ২০০১ সালে সিএফএক্স একাডেমিতে যুক্ত হন। এ পর্যায়ে স্বীয় প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটান। ২০০১ সালের লোগান কাপ প্রতিযোগিতায় স্মরণীয় প্রতিরোধ গড়ে তুলে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটান। পাঁচ খেলায় অংশ নিয়ে চারটি অর্ধ-শতক হাঁকান ও একবার মাত্র ২০-এর কোটা স্পর্শ করতে পারেননি। এ ধরনের সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে ২০০০-০১ মৌসুমে সফররত ভারতীয় একাদশ ও ২০০১-০২ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান একাদশের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পান। ঐ দলগুলোর বিপক্ষে উদীয়মান খেলার অপূর্ব ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শনে সচেষ্ট হন। তন্মধ্যে, ভারতীয় একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতিমূলক খেলায় ৬৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। এ পর্যায়ে ব্যাটিং কৌশল তেমন পরিবর্তিত না হলেও দ্রুত তাঁকে পরিপক্ক করে তুলে ও আরও প্রতিজ্ঞাবদ্ধতার দিকে নিয়ে যায়।
ম্যাশোনাল্যান্ডের পক্ষে খেলার জন্যে আবেদন করেন ও সফল হন। ক্লাব পর্যায়ে ওল্ড জর্জিয়ান্সের পক্ষে খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন। তবে, আশানুরূপ সফলতা পাননি। ২০০২ সালে স্কটল্যান্ডে আরভিনের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন।
২০০২ থেকে ২০০৫ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট ও ১৫টি ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। ২৩ নভেম্বর, ২০০২ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। শুরুতে পায়ে বেশ আড়ষ্ট ভাব পরিলক্ষিত হয়। পরবর্তীতে, ফেব্রুয়ারি, ২০০৪ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজে দুটি ধ্রুপদীশৈলীর অর্ধ-শতক হাঁকান। জেডসিইউ’র সাথে বিদ্রোহী খেলোয়াড়দের আর্থিক সংঘাতের পূর্বে এটি সর্বশেষ সিরিজ ছিল।
১৫জন বিদ্রোহী খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে তিনিও দল থেকে বাদ পড়েন। তবে, জিম্বাবুয়ে বোর্ড থেকে নতুন চুক্তির আওতায় গেভিন ইউইং ও চার্লস কভেন্ট্রি’র সাথে পুণরায় দলে ফিরে আসেন। ২০০৪-০৫ মৌসুমে টাটেন্ডা টাইবু’র নেতৃত্বে জিম্বাবুয়ে দলের সাথে বাংলাদেশ গমন করেন। ৬ জানুয়ারি, ২০০৫ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ক্রিস এমপফু ও গ্রায়েম ক্রিমারের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৫ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ২২৬ রানে পরাজিত হয় ও দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। ৩১ জানুয়ারি, ২০০৫ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেন ও ম্যান অব দ্য সিরিজ পুরস্কার লাভ করেন।
একই মৌসুমে টাটেন্ডা টাইবু’র নেতৃত্বে জিম্বাবুয়ে দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১১ মার্চ, ২০০৫ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। স্বাগতিক দল ইনিংস ও ৬২ রানে জয় পায়। ৭ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
উইকেটের চতুঃপার্শ্বেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে রান তুলতে পারঙ্গমতা প্রকাশ করেন। সচরাচর, কভার ড্রাইভে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি হকি, স্কোয়াশ ও সাঁতারে দক্ষতা রয়েছে। তবে, বিদ্যালয় ত্যাগের পর ক্রিকেট ব্যতীত বাদ-বাকী খেলাগুলোয় অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে অনূর্ধ্ব-২০ দলে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ম্যাশোনাল্যান্ড কান্ট্রি ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে সপ্তম গ্রেডে টেনিস খেলেছেন। অবসরকালীন মৎস্য শিকার করে থাকেন।
দীর্ঘ সময় ধরে মনোযোগের সাথে ক্রিজ আঁকড়ে থাকার কারণে জ্যাক ক্যালিস ও গ্যারি কার্স্টেনকে পছন্দের তালিকার শীর্ষে রেখেছেন। এছাড়াও, শচীন তেন্ডুলকরকে এ তালিকায় ঠাঁই দিয়েছেন। বিভিন্ন পিচে ভিন্নতর বোলারদের প্রাধান্য থাকলেও হরভজন সিংকে মোকাবেলায় হিমশিম খান। এছাড়াও, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ব্যাটিংকে বেশ দুর্বোধ্যরূপে আখ্যায়িত করেছেন।
ব্যাটসম্যান হিসেবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উইকেটের চতুর্দিকে রান তুলতে সক্ষম। তবে, কভার ড্রাইভ অঞ্চলে খেলতে অধিকতর স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। বল হাতে নিয়ে তেমন বৈচিত্র্যময় বোলিংশৈলী প্রদর্শন করতে পারেননি। পয়েন্ট অঞ্চলে ফিল্ডিং করেন। অধিনায়কের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনে মিড-অন কিংবা মিড-অফ অঞ্চলে দণ্ডায়মান থাকেন। দুইটি কোচিং কোর্স সম্পন্ন করেছেন।
