|

জন ওয়াটকিন্স, ১৯২৩

১০ এপ্রিল, ১৯২৩ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

আগ্রাসী ব্যাটসম্যান ও নিখুঁত বোলার হিসেবে স্লিপ অঞ্চলে দারুণ ফিল্ডিং করতেন। ১৯৪৬-৪৭ মৌসুম থেকে ১৯৫৭-৫৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর অভিষেকের পূর্বে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সাউথ আফ্রিকান এয়ার ফোর্সের স্পিটফায়ার পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তবে, বর্ণান্ধতার কারণে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সাথে যুক্ত হন। যুদ্ধের পরপরই তাঁর উত্থান ঘটে।

১৯৪৯ থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ১৫ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও, ১৯৫১ ও ১৯৫৫ সালে ব্যবসায়িক ব্যস্ততায় ইংল্যান্ড সফরে যেতে পারেননি। ১৯৪৯-৫০ মৌসুমে নিজ দেশে লিন্ডসে হ্যাসেটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৪৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। হিউ টেফিল্ডজ্যাক নেলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৩৬ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৫৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৮৫ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৫২-৫৩ মৌসুমে জ্যাক চিদামের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। এ সফরে তাঁর স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিবাহিত হয়। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৭৬ রান অতিক্রম করেন। ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৩ তারিখে মেলবোর্নের এমসিজিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৯২ রানের ইনিংস খেলেন। এরপর, দ্বিতীয় ইনিংসে ৫০ রান তুলে দলের ছয় উইকেটের বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। এ জয়ের কল্যাণে সিরিজটি ২-২ ব্যবধানে ড্রয়ে পরিণত হয়। এছাড়াও, ০/৭২ ও ০/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এ ফলাফলে জ্যাক চিদামের নেতৃত্বে দলের অসাধারণ ফিল্ডিং ও শারীরিক সুস্থতাকে নিয়ামক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। এ সফরে ২৮.২৯ গড়ে ৬৭৯ রান ও ২৭.৭৪ গড়ে ৩১ উইকেট দখল করেছিলেন। তন্মধ্যে, টেস্ট থেকে ৪০৮ রান সংগ্রহসহ ১৬ উইকেট দখল করেছিলেন।

একই মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জ্যাক চিদামের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে টেস্ট খেলেন। ৬ মার্চ, ১৯৫৩ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৪/৪১। খেলায় তিনি ১/২৯ ও ৪/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৮০ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে নিজ দেশে জিওফ রাবোনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১১ ডিসেম্বর, ১৯৫৩ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ৫ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ২৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২৮ ও ২/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৫৮ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯৫৬-৫৭ মৌসুমে নিজ দেশে পিটার মে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১ জানুয়ারি, ১৯৫৭ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৭* ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৩১২ রানে পরাজিত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সব মিলিয়ে টেস্টগুলো থেকে তিনটি অর্ধ-শতকসহ ৬১২ রান ও ২৮.১৩ গড়ে ২৯ উইকেট দখল করেছিলেন। নাটালের পক্ষেও দারুণ খেলেছেন। ৬০টি প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে ২৪.৮০ গড়ে ২১৫৮ রান সংগ্রহসহ ৯৬ উইকেট পেয়েছিলেন।

কোভিড-১৯ অতিমারীতে আক্রান্ত হন। ১০দিন পর ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ তারিখে ডারবানে ৯৮ বছর ১৪৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুর পূর্বে তিনি বিশ্বের বয়োজ্যেষ্ঠ জীবিত টেস্ট ক্রিকেটারের সম্মাননার অধিকারী ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর ফলে সতীর্থ ও ৯৫ বছর বয়সী রন ড্রাপার এ সম্মাননা ধারন করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট