|

ফ্রাঙ্ক মিলিগ্যান

১৯ মার্চ, ১৮৭০ তারিখে হ্যাম্পশায়ারের ফার্নবোরা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৯৪ থেকে ১৮৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। দূর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পেস সহযোগে ফাস্ট বোলিং করতেন ও মারকুটে ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ১৮৯৭ সালে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। ২১ গড়ে ৭৪৪ রান ও ২৭ গড়ে ৪৩ উইকেট দখল করেছিলেন। ১৮৯৭ ও ১৮৯৮ সালে জেন্টলম্যানের পক্ষে খেলেছিলেন। তন্মধ্যে, ১৮৯৭ সালে প্লেয়ার্সের বিপক্ষে উভয় ইনিংসে ৪৭ রান করে তুলেছিলেন ও দ্বিতীয় ইনিংসে এক পর্যায়ে ৩-১-৩-২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছিলেন। ১৮৯৮ সালে স্কারবোরার খেলায় দ্বিতীয় ইনিংসে ৬১ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

১৮৯৯ সালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র দুই টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৯৮-৯৯ মৌসুমে লর্ড হকের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ঐ দুই টেস্ট খেলেন। তবে, শোফিল্ড হেই ও আলবার্ট ট্রটের আধিপত্যে তিনি তেমন বোলিংয়ের সুযোগ পাননি। ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ক্লেম উইলসন, ফ্রাঙ্ক মিচেল, জ্যাক বোর্ড, জনি টিল্ডসলে, পেলহাম ওয়ার্নার, শোফিল্ড হেই ও উইলিস কাটেলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১১ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৩২ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১ এপ্রিল, ১৮৯৯ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। প্রথম ইনিংসে ১ রান তুললেও দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। এ পর্যায়ে জনি টিল্ডস্লে’র সাথে কার্যকর জুটি গড়েছিলেন। তবে, উভয় ইনিংসেই জিমি সিনক্লেয়ারের শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ২১০ রানে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এ সফরের পর তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় নিবাস গড়েন।

অন্য কাউন্টিতে জন্মগ্রহণ করলেও ইয়র্কশায়ারের পক্ষে ৮১টি খেলায় অংশ নিয়ে ১৮৭৯ রান ও ১১২ উইকেট করায়ত্ত্ব করেন। সবগুলো প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ২২৩২ রান ও ১৪৪ উইকেট দখল করেছিলেন। এছাড়াও, ১৮৯৫ সালে ফ্রাঙ্ক মিচেলের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে উত্তর আমেরিকা গমন করেন।

৩১ মার্চ, ১৯০০ তারিখে দক্ষিণ আফ্রিকার রামথলাবামা এলাকায় মাত্র ৩০ বছর ১২ দিন বয়সে তিনি নিহত হন। মৃত্যুকালীন তিনি লেফটেন্যান্ট পদবীধারী ছিলেন। দ্বিতীয় বোয়ের যুদ্ধে মাফেকিং মুক্ত করতে কর্নেল প্লামারের বাহিনীকে সহায়তা করতে সেখানে গিয়ে প্রাণ হারান। তাঁর সম্মানার্থে লর্ড হক ব্রাডফোর্ড হাসপাতালে শিশুদের শয্যা দান করেন।

Similar Posts

  • |

    কাগিসো রাবাদা

    ২৫ মে, ১৯৯৫ তারিখে জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, বামহাতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পিতা এমফো রাবাদা ও মাতা ফ্লোরেন্স আইনজীবি। অ্যাটলগং রাবাদা নামীয় ভ্রাতা রয়েছে। ক্ষীপ্রগতি ও ভীতিদায়ক বাউন্স প্রদানে পরিচিতি লাভ করেছেন। ২০১৪ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৮…

  • |

    আফাক হুসাইন

    ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৩৯ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৫৭-৫৮ মৌসুম থেকে ১৯৭৩-৭৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে…

  • |

    অজিত আগরকর

    ৪ ডিসেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে মহারাষ্ট্রের বোম্বে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারত ও ঘরোয়া রঞ্জী ট্রফিতে মুম্বই দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। খেলোয়াড়ী জীবনের অপ্রত্যাশিত উত্থান ও পতনের সাথে জড়িত হয়ে পড়েন।…

  • |

    কলিন ম্যাককুল

    ৯ ডিসেম্বর, ১৯১৬ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্যাডিংটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও লেখক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। এছাড়াও, স্লিপ অঞ্চলে দূর্দান্ত ফিল্ডিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৩৯-৪০ মৌসুম থেকে ১৯৬০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ…

  • |

    এডউইন ইভান্স

    ২৬ মার্চ, ১৮৪৯ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের এমু প্লেইন্স এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে স্লো বোলিং কিংবা ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। চমৎকার অফ-স্পিনার হিসেবে যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছেন। মূলতঃ ধৈর্য্য ও নিখুঁত বোলিংয়ের দিকে গুরুত্ব আরোপ করতেন।…

  • |

    আলফ্রেড স্কট

    ২৯ জুলাই, ১৯৩৪ তারিখে জ্যামাইকার স্প্যানিশ টাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পিতা অস্কার টমি স্কট ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৪০-এর দশকে সেন্ট জর্জেস কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। এ…