২৫ অক্টোবর, ১৯৮৯ তারিখে কর্ণাটকের ব্যাঙ্গালোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে তিনি মূলতঃ বোলার হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। ২০১০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
২০০৯-১০ মৌসুম থেকে ২০১৯-২০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে কর্ণাটক ও দক্ষিণাঞ্চল দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। এছাড়াও, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর ও সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের পক্ষে খেলেছেন। ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলারের উপযোগী গড়ন তাঁর। উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে বাউন্সারের মাধ্যমে সফলতা আনয়ণে প্রয়াস চালান। পেসের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ব্যাঙ্গালোরভিত্তিক পিতার ব্যায়ামাগারে নিজেকে দ্রুতগতির বোলার হিসেবে তৈরি করেন।
কৈশোরে অ্যাথলেটিকস ও চাকতি নিক্ষেপে পারদর্শী ছিলেন। তবে, ১৭ বছরের পূর্ব পর্যন্ত চামড়ার বলে বোলিং করেননি। তিন বছর পর ২০০৯-১০ মৌসুমে রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় সফলতম ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। কর্ণাটকের কোচ রাহুল দ্রাবিড়ের কাছে তাঁর পেস বিমোহিত করে ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনায় চিত্র হিসেবে তুলে ধরেন। উত্তর প্রদেশের বিপক্ষে অভিষেক খেলায় ১১ উইকেট পান। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় ইনিংসে হ্যাট্রিক করেন। এরফর, ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে জবাগল শ্রীনাথের সাফল্যের সাথে নিজেকে যুক্ত করেন।
২০০৯ সালের আইপিএল আসরে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের যাচাই-বাছাইয়ে কোচ রে জেনিংসের দৃষ্টিগোচরে চলে আসেন। ঐ প্রতিযোগিতায় তেমন সাড়া জাগাতে না পারলেও রঞ্জী ট্রফিতে ব্যাটসম্যানদের ত্রাসে পরিণত হন। ৪৭ উইকেট দখল করে কর্ণাটকের প্রধান বোলারে পরিণত হন ও এক দশকের অধিক সময় পর দলকে প্রথমবারের মতো চূড়ান্ত খেলায় নিয়ে যায়। অবশ্য, মুম্বইয়ের কাছে তাঁর দল পরাজিত হয়েছিল। ফলশ্রুতিতে, জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর আস্থা কুড়ান ও তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলার জন্যে মনোনীত করা হয়। তবে, প্রথম একাদশে খেলার সুযোগ পাননি।
২০১০ থেকে ২০১১ সময়কালে ভারতের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট ও পাঁচটিমাত্র একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১০ তারিখে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অভিষেক হয়। এর পাঁচ মাস পর শ্রীলঙ্কা সফর করেন।
২০১০ সালে এমএস ধোনি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ১৮ জুলাই, ২০১০ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা দলের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অভিষেক ঘটে তাঁর। ৪/১০৫ ও ০/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ৮ ও ২৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। লাসিথ মালিঙ্গা’র অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীতে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এরপর থেকেই তিনি দলে আসা-যাবার পালায় থাকেন। প্রায়শঃই তাঁকে দলের কোন আঘাতগ্রস্ত খেলোয়াড়ের স্থলাভিষিক্ত খেলোয়াড়ের মর্যাদা দেয়া হয়।
বিস্ময়করভাবে ২০১০ সালের শেষদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁকে পাশ কটিয়ে জয়দেব উনাদকটকে দলে রাখে। তবে, জহির খান ও এস শ্রীশান্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের পূর্বে আঘাতের কবলে পড়লে তাঁকে দলে রাখা হয়। ২০১১ সালে এমএস ধোনি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ভিসা জটিলতার কারণে প্রথম টেস্টে অংশ নিতে পারেননি। তবে, ২৮ জুন, ২০১১ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ২/৩৪ ও ১/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ফিডেল অ্যাডওয়ার্ডসের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। তবে, ইশান্ত শর্মা’র অনবদ্য বোলিংয়ে খেলাটি ড্রয়ের দিকে চলে যায় ও সফরকারীরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। ডোমিনিকায় পরবর্তী টেস্টে তাঁকে রাখা হয়নি। এছাড়াও, ইংল্যান্ড সফরে দলের বাইরে ছিলেন। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওডিআইয়ে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১৮ জুলাই, ২০১০ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তাঁর। ঐ খেলায় তিনি চার উইকেট দখল করেছিলেন। প্রথম ইনিংসে এগারো নম্বরে ব্যাটিং করেন। তবে, সতীর্থ বোলারদের তুলনায় বেশ ভালোমানের ব্যাটিং করায় তাঁকে দ্বিতীয় ইনিংসে নয় নম্বরে নিয়ে আসা হয়। এ অবস্থানে থেকে ২৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন তিনি।
২০১১ সালের আইপিএলের নিলামে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। বলে পেস থাকলেও বোলিংয়ে বৈচিত্র্যতা না থাকায় নিয়মিত সফলতার সন্ধান পাচ্ছিলেন ন। ২০১৩ সালের পূর্ব পর্যন্ত দলটিতে খেললেও দলে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাননি। ২০১৪ সালের নিলামে কোন দলে তাঁকে রাখা হয়নি।
২০১৩-১৪ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফির আসরে বেশ সফল ছিলেন। ৪১ উইকেট নিয়ে বোলিংয়ের শীর্ষে অবস্থান করেন। এ পর্যায়ে দলের শিরোপা বিজয়ে বিরাট ভূমিকা রাখেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ২৮ আগস্ট, ২০১৬ তারিখে অভিনেত্রী রাধিকা শরৎকুমারের কন্যা ও মেয়েবান্ধবী রায়ানেকে বিয়ে করেন তিনি। ৭ জুন, ২০১৮ তারিখে তাঁদের এক পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে।
