৫ জুন, ২০০২ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করে থাকেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
২০২১-২২ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারির প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়াও, ক্যান্টারবারি আমন্ত্রিত একাদশে পক্ষে খেলেছেন। ৩ মার্চ, ২০২২ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত অকল্যান্ড বনাম ক্যান্টারবারির মধ্যকার অনুষ্ঠিত খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
দীর্ঘাকায় গড়নের অধিকারী ফাস্ট বোলার। প্রয়োজনে নিচেরসারিতে ব্যাট হাতে নিয়েও ভূমিকা রেখে থাকেন। ২০২২-২৩ মৌসুমের সুপার স্ম্যাশ প্রতিযোগিতায় দূর্দান্ত খেলেন। ফলশ্রুতিতে, নিউজিল্যান্ডের টি২০আই দলে খেলার জন্যে বিবেচিত হন। সাথে খেলায় অংশ নিয়ে ১২ স্ট্রাইক রেটে ওভারপ্রতি ৭.৩৬ রান খরচ করে ক্যান্টারবারির সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীতে পরিণত হন। ঐ মৌসুমে তাঁর দল চূড়ান্ত খেলায় পৌঁছে।
উইল উইলিয়ামস কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে যুক্তরাজ্যে গমনের ফলে ক্যান্টারবারি থেকে চলে গেলে ও ম্যাট হেনরিকে প্রায়শঃই জাতীয় দলে খেলতে ব্যস্ত হয়ে পড়লে তাঁকে খুবই কঠিন সময়ের ওভারগুলোয় বোলিং করতে হয়। অপ্রত্যাশিতভাবে ঘরোয়া দলটির খেলা বিজয়ীর ভূমিকা পালনে আবির্ভূত হন। নিউজিল্যান্ডের বাইরেও বেশ কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যের ভাইটালিটি ব্ল্যাস্টে বার্মিংহাম বিয়ার্সের পক্ষে খেলেছেন।
২০২৪ সাল থেকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০২৫ সালে মিচেল স্যান্টনারের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে সফরে যান। ৩ জুন, ২০২৫ তারিখে মিচেল হে ও মোহাম্মদ আব্বাসকে নিউজিল্যান্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে যুক্ত করে। এছাড়াও, জ্যাক ফোকস ও আদি অশোককে চুক্তিতে রাখা হলেও ইশ সোধি ও এজাজ প্যাটেলকে এর বাইরে রাখা হয়। ৩ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেয়ার পূর্বে আঘাতের কারণে নাথান স্মিথকে বাদ দিয়ে তাঁকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়। এছাড়াও, উইল ও’রোর্কের পরিবর্তে বামহাতি ফাস্ট বোলার বেন লিস্টারকে দলে যুক্ত করা হয়।
৭ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। জ্যাকব ডাফি ও ম্যাথু ফিশারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৪/৩৮ ও ৫/৩৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, দলের একমাত্র ইনিংসে তাঁকে ব্যাটিংয়ে নামতে হয়নি। ডেভন কনওয়ে’র অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৩৫৯ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। টেস্ট অভিষেকের পূর্বেই ২১ এপ্রিল, ২০২৪ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান বনাম নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।
২০২৫-২৬ মৌসুমে নিজ দেশে রোস্টন চেজের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলে ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪ ও ১১* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৩২ ও ১/৮০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, জাস্টিন গ্রিভের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে মাউন্ট মুঙ্গানুইয়ে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১ রান সংগ্রহসহ সমসংখ্যক ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৮২ ও ০/২০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ডেভন কনওয়ে’র অসাধারণ জোড়া শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩২৩ রানে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
