৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপের ইস্ট লন্ডনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। ডানহাতে শীর্ষসারিতে ব্যাটিং করেন। পাশাপাশি, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
পাঁচ বছর বয়সে পরিবারের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে নিউজিল্যান্ডে চলে আসেন। অন্যতম উদীয়মান তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে খেলেছেন। এক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর দাঁত ভেঙ্গে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেট-রক্ষণে সবিশেষ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। দৃশ্যতঃ সীমিত-ওভারের ক্রিকেটের দিকেই তাঁর ঝোঁক লক্ষ্য করা যায়।
উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ১৮ বছর বয়সে ২৪ জানুয়ারি, ২০১৫ তারিখে ফোর্ড ট্রফিতে লিস্ট-এ ক্রিকেটে প্রথম খেলতে নামেন। এছাড়াও, ২০১৬ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় কিউই দলের পক্ষে খেলেছেন। ২০১৬-১৭ মৌসুমের সুপার স্ম্যাশ প্রতিযোগিতায় ৩৬৯ রান তুলে প্রতিযোগিতার শীর্ষ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। এ পর্যায়ে ৫৭ বলে ১১৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।
২০১৬-১৭ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বার্বাডোস রয়্যালস, জ্যামাইকা তল্লাহজ, রাজস্থান রয়্যালস, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ও ওয়েলস ফায়ারের পক্ষে খেলেছেন। ৬ মার্চ, ২০১৭ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ক্যান্টারবারি বনাম অকল্যান্ডের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
অকল্যান্ড দলের সদস্যরূপে টি২০ খেলায় দারুণ ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। ম্যাকডোনাল্ডস সুপার স্ম্যাশ প্রতিযোগিতায় ওতাগো ভোল্টসের বিপক্ষে ইনিংস উদ্বোধনে নেমে ৩২ বলে ৫৫ রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, ঐ প্রতিযোগিতায় ৩৬৯ রান তুলে সর্বাধিক রান সংগ্রাহকে পরিণত হয়েছিলেন। শুরুতেই সাদা-বলের ক্রিকেটে বিধ্বংসী ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের ফলে ২১ বছর বয়সী গ্লেন ফিলিপসকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশের পথ সুগম করে দেয়।
২০১৭ সাল থেকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি২০আই সিরিজ খেলতে নিউজিল্যান্ড দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন। মার্টিন গাপটিল আঘাতের কবলে পড়লে ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ তারিখে অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের যাত্রা শুরু হয়। স্যাক্সটন ওভালে অনুষ্ঠিত নিজস্ব চতুর্থ টি২০আইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪০ বলে ৫৫ রান তুলেন।
এছাড়াও, ২০১৭ সালের শেষদিকে বিদেশ সফরের জন্যে মনোনীত হন। ভারতের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজে তাঁকে ঠাঁই দেয়া হলেও কোন খেলায় তাঁকে খেলানো হয়নি। ২০১৯-২০ মৌসুমে টম ল্যাথামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৩ জানুয়ারি, ২০২০ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৫২ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, মারনাস লাবুশেনের অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ২৭৯ রানে জয় পেয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
২০২৩-২৪ মৌসুমে টিম সাউদি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ সফরে যান। ৬ ডিসেম্বর, ২০২৩ তারিখে মিরপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৫২ রান অতিক্রম করেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৮৭ ও ৪০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ৩/৩১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে ৪ উইকেটে জয় পেলে সফরকারীরা সিরিজে সমতা আনতে সক্ষম হয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
একই মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্টে অংশ নেন। এ মৌসুমে নীল ব্র্যান্ডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে মাউন্ট মুঙ্গানুইয়ে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৩০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। রচিন রবীন্দ্রের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ২৮১ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
২০২৪-২৫ মৌসুমে টম ল্যাথামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো ভারত গমন করেন। ১৬ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ৪ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৬৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, রচিন রবীন্দ্র’র অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে ওয়াংখেড়েতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১/৮৪ ও ৩/৪২ লাভ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ১৭ ও ২৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, এজাজ প্যাটেলের স্মরণীয় বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা মাত্র ২৫ রানে পরাভূত হলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০২৪-২৫ মৌসুমে নিজ দেশে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫ ও ৩ রান সংগ্রহসহ চারটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। মিচেল স্যান্টনারের অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৪২৩ রানের বিরাট ব্যবধানে জয়লাভ করলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০২৫-২৬ মৌসুমে নিজ দেশে রোস্টন চেজের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে মাউন্ট মুঙ্গানুইয়ে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৯ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৮ ও ১/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ডেভন কনওয়ে’র অসাধারণ জোড়া শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩২৩ রানে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
