৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে কেন্টের ব্রোমলি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান তিনি। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। পাশাপাশি, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করে থাকেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন।
টনব্রিজ স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। শুরুতে কেন্ট একাডেমিতে যোগ দেন। ২০১৭ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, লন্ডন স্পিরিট দলের পক্ষে খেলেছেন। ৬ আগস্ট, ২০১৭ তারিখে ক্যান্টারবারিতে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশের বিপক্ষে খেলার মাধ্যমে কেন্টের সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। নিখুঁতমানের ৬২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।
দর্শনীয় ভঙ্গীমায় ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। পুরোটা সময় জুড়েই কেন্ট দলে খেলছেন। ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো পেশাদারী পর্যায়ে দলটির সাথে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। এরপর থেকে ক্রমশঃ সামনের দিকে চলে আসেন। ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার বিশাল দেহের অধিকারী তিনি। ক্লাবের সাথে চুক্তিবদ্ধ হবার কয়েক বছর পর মে, ২০১৭ সালে ক্যান্টারবারিতে এসেক্সের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো লিস্ট-এ খেলায় অংশ নেন।
২০১৮ সালে কেন্ট দলের নিয়মিত খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান। দলের প্রথম-শ্রেণীর খেলার সবকটিতেই তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। ৩১.৪৬ গড়ে ৭৫৫ রান তুলে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। ঐ মৌসুমে নিজ মাঠে অনুষ্ঠিত শেষ খেলায় প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। ক্যান্টারবারিতে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে ১৬৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। ঐ মৌসুমে চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধিতে স্বাক্ষর করেন ও পাশাপাশি, সিডনি ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলেন। সেখানে প্রতিযোগিতার ইতিহাসের দ্রুততম শতরানের নতুন রেকর্ড গড়েন। টি২০ কাপে সাদারল্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ৪২ বল থেকে ১০০ রান তুলেন।
এরপর আরও দুইটি শতরানের ইনিংস খেলে জুলাইয়ে ক্যান্টারবারিতে অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে চারদিনের খেলায় অংশ নেয়ার জন্যে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড লায়ন্স দলে জায়গা করে নেন। সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ড সফরকে ঘিরে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে অন্তর্ভুক্ত হন।
২০১৯ সাল থেকে ইংল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১৯-২০ মৌসুমে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২৯ নভেম্বর, ২০১৯ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, অভিষেক পর্বটি মোটেই সুখকর হয়নি ও প্রথম খেলাটিকে স্মরণীয় করে রাখতে পারেননি। ঐ খেলায় মাত্র এক রান তুলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। দলীয় অধিনায়কের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
ডিসেম্বর, ২০১৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা গমনার্থে তাঁকে টেস্ট দলে ঠাঁই দেয়া হয়। ২০১৯-২০ মৌসুমে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁকে খেলানো হয়নি। ঐ খেলায় তুলনামূলকভাবে দূর্বল স্বাগতিক দলের কাছে বিস্ময়করভাবে তাঁর দল পরাভূত হয়। তবে, দ্বিতীয় টেস্টে তাঁকে দলে ফিরিয়ে আনা হয়। সেখান থেকে সিরিজের পরবর্তী তিন টেস্টে ইংল্যান্ড দল জয় পায় ও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে জয়লাভ করে।
১৬ জানুয়ারি, ২০২০ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৫ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৪৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। অলি পোপের অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৫৩ রানে পরাজিত হলে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
ঐ সিরিজের চূড়ান্ত খেলায় তুলনামূলকভাবে ভালো খেলেন। ২৪ জানুয়ারি, ২০২০ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৪৪ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৬৬ ও ২৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, মার্ক উডের অসাধারণ অল-রাউন্ড সাফল্যে সফরকারীরা ১৯১ রানে জয়লাভ করলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০২০ সালে নিজ দেশে আজহার আলী’র নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২১ আগস্ট, ২০২০ তারিখে সাউদাম্পটনে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ২৬৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোয়ায়। তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
২০২১-২২ মৌসুমে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমন করেন। ২৪ মার্চ, ২০২২ তারিখে সেন্ট জর্জেসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৭ ও ৮ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, জশুয়া ডা সিলভা’র অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০২৪ সালে নিজ দেশে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১০ জুলাই, ২০২৪ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। জিমি অ্যান্ডারসনের বিদায়ী টেস্টের একমাত্র ইনিংসে সর্বাধিক ৭৬ রান সংগ্রহ করেন। তবে, অভিষেকধারী গাস অ্যাটকিনসনের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা খুব সহজে তিনদিনেই ইনিংস ও ১১৪ রানের ব্যবধানে জয়লাভ করে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০২৫ সালে নিজ দেশে ক্রেগ আরভিনের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ীয় দলের মুখোমুখি হন। ২২ মে, ২০২৫ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ১০১ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৩০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৭১ বল মোকাবেলায় ১২৪ রান সংগ্রহ করেন। তাঁর এ শতকটি নিজস্ব পঞ্চম ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ছিল। এ পর্যায়ে ৩১.৪৯ গড়ে ৩০২৩ রান সংগ্রহ করেন। তবে, শোয়েব বশীরের অনবদ্য কৃতিত্বে স্বাগতিকরা চারদিনের টেস্টটি তিনদিনেই করায়ত্ত্ব করে নেয়। ইনিংস ও ৪৫ রানে জয়লাভ করে ইংল্যান্ড দল। এরফলে, জিম্বাবুয়ে দলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ টেস্টের চারটিতে পরাজিত হয় ও একটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।
২০২৫-২৬ মৌসুমে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৬ ও ১ রান সংগ্রহ করেন। তবে, ট্রাভিস হেডের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ৫ উইকেটে পরাভূত হলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০২০ সালে ক্লাব ও ইংল্যান্ডের পক্ষে দারুণ খেলার সুবাদে ২০২১ সালে পিসিএ বর্ষসেরা তরুণ খেলোয়াড় ও উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন।
