|

মার্ক অ্যাডেইর

২৭ মার্চ, ১৯৯৬ তারিখে উত্তর আয়ারল্যান্ডের হলিউড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ বোলিংয়ের উপর অধিক জোর দেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে বেশ ভালোমানের ব্যাটিংয়ে দক্ষতা প্রদর্শন করছেন। ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে আয়ারল্যান্ডের পক্ষে খেলছেন।

দীর্ঘদেহী সিম বোলিং অল-রাউন্ডারের অধিকারী। স্পার্কি ডাকনামে পরিচিতি পেয়েছেন। ক্রীড়ানুরাগী পরিবারের সন্তান। পিতা গোলরক্ষক হিসেবে খেলতেন। অপর ভাই জিআর অ্যাডেইর রাগবি খেলায় অংশগ্রহণসহ বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে আয়ারল্যান্ড দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি রাগবি খেলায়ও সিদ্ধহস্তের অধিকারী ছিলেন। তবে, ২০১৩ সালে ওয়ারউইকশায়ার কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাইয়ের আয়োজন করলে তিনি ক্রিকেট খেলাকেই অগ্রাধিকার দেন।

২০১৫ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করছেন। কিশোর অবস্থাতেই ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ তারিখে টানটনে সমারসেট বনাম ওয়ারউইকশায়ারের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে মার্কাস ট্রেস্কোথিককে বিদেয় করে নিজস্ব প্রথম উইকেটের সন্ধান পান। এছাড়াও, আয়ারল্যান্ডের বয়সভিত্তিক দলসহ ‘এ’ দলে খেলেছেন। ২০১৭ সাল শেষে ওয়ারউইকশায়ার কর্তৃপক্ষ তাঁকে অব্যাহতি দেয়। এরপর থেকে নর্দার্ন নাইটস ও ডারহাম দ্বিতীয় একাদশে খেলছেন।

২০১৯ সাল থেকে আয়ারল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। জুন, ২০১৬ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজ খেলার উদ্দেশ্যে তাঁকে দলে অন্তর্ভুক্ত করলেও কোন খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি। অবশেষে তিন বছর পর ৩ মে, ২০১৯ তারিখে ডাবলিনের মালাহাইডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথম খেলেন।

২০১৯ সালে উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের নেতৃত্বাধীন আইরিশ দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। লন্ডনের লর্ডস টেস্টকে ঘিরে ৮ জুলাই, ২০১৯ তারিখে স্টুয়ার্ট পয়েন্টারের সাথে তাঁকে আয়ারল্যান্ড দলে রাখা হয়। স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের ইতিহাসের প্রথম ও সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। অতঃপর, ২৪ জুলাই, ২০১৯ তারিখে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ খেলায় ৬ উইকেট দখল করেছিলেন। খেলায় তিনি ৩/৩২ ও ৩/৬৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৩ ও ৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, জ্যাক লিচের অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে ঐ টেস্টে তাঁর দল ১৪৩ রানে পরাজয়বরণ করেছিল।

২০২০ সালের শুরুতে আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড কর্তৃক ১৯ জন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে চুক্তিতে উপনীত করে।

ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সালে অ্যান্ড্রু বালবির্নি’র নেতৃত্বাধীন আয়ারল্যান্ড দলের সদস্যরূপে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে আবুধাবির টলারেন্স ওভালে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে আয়ারল্যান্ডের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্ট জয়ে স্মরণীয় ভূমিকা রাখেন। দুই দলের মধ্যকার সর্বনিম্ন ৭৪৭ রানের খেলায় ৫/৩৯ ও ৩/৫৬ লাভ করে দলের ৬ উইকেটের বিজয়ে অংশ নেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে প্রথম ইনিংসে ১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। সবমিলিয়ে তিনি ১৮ উইকেট লাভ করলে অ্যান্ডি ম্যাকব্রায়ানের সংগৃহীত ১৪ উইকেট লাভের রেকর্ড ভেঙ্গে যায় ও তিনি আয়ারল্যান্ডের শীর্ষ উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত হন।

২০২৪-২৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়ের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে অ্যান্ড্রু বালবির্নি’র নেতৃত্বাধীন আইরিশ দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে সফরে যান। ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৭৮ ও ১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, ২/৫৬ ও ১/৪৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, অ্যান্ডি ম্যাকব্রায়ানের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ৬৩ রানে জয়লাভ করে।

Similar Posts

  • | | |

    ডিওন ন্যাশ

    ২০ নভেম্বর, ১৯৭১ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাশাপাশি, সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। ক্রিকেটে যুক্ত হবার পূর্বে অনেকগুলো ক্রীড়ায় সিদ্ধহস্তের অধিকারী ছিলেন। বাস্কেটবল ও রাগবি খেলায় দক্ষ ছিলেন। অকল্যান্ডে অস্ট্রেলীয় রুলস ফুটবলে অংশ নিয়েছেন। অস্ট্রেলীয়…

  • | | |

    গুলাম আহমেদ

    ২৮ জুলাই, ১৯২২ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের হায়দ্রাবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতের প্রথম সেরা অফ-স্পিনার হিসেবে নিজের পরিচিতি ঘটিয়েছেন। বেশ দেরীতে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সাথে সংযুক্তি ঘটে। ১৯৩৯-৪০ মৌসুম থেকে…

  • |

    জন ট্রাম্বল

    ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৮৬৩ তারিখে ভিক্টোরিয়ার কলিংউড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। ১৮৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। তুলনামূলকভাবে খ্যাতি পাওয়া সহোদর হিউ ট্রাম্বলের তুলনায় খুব কমই সফলতার সন্ধান পেয়েছেন। তবে, কার্যকর অল-রাউন্ডার হিসেব দলে বেশ ভূমিকা রাখতেন। ১৮৮৩-৮৪ মৌসুম থেকে ১৮৯৩ পর্যন্ত…

  • | |

    আলফ্রেড লিটলটন

    ৭ ফেব্রুয়ারি, ১৮৫৭ তারিখে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী শৌখিন ক্রিকেটার, রাজনীতিবিদ ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণ কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে স্লো বোলিং করতেন। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ক্রীড়াপ্রেমী পরিবারের সন্তান তিনি। জর্জ উইলিয়াম লিটলটন ও মেরি গ্লিন দম্পতির বারো সন্তানের মধ্যে অষ্টম পুত্র ও সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন। তবে,…

  • |

    ভার্নন রয়েল

    ২৯ জানুয়ারি, ১৮৫৪ তারিখে চেশায়ারের ব্রুকল্যান্ডস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। এছাড়াও, কভার অঞ্চলে দূর্দান্ত ফিল্ডিং করে সবিশেষ পরিচিতি লাভ করেছিলেন। ১৮৭০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৮৭৩ থেকে ১৮৯১…

  • | |

    সেইলর ইয়ং

    ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৮৭৬ তারিখে এসেক্সের লেটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। মাইনর ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করে খ্যাতি কুড়ান। এ সময়ে তিনি রয়্যাল নেভিতে কর্মরত ছিলেন। লেটনে বোলিং অনুশীলনকালে সি.ই. গ্রীনের নজর কাড়েন।…